বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) অধীনে গত ৩৮ বছরে ৩ হাজার ৪৭৬টি গবেষণা প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫৭১টির অধিক গবেষণা প্রকল্প চালু রয়েছে।
প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক কর্মশালায় চলমান এসব গবেষণা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এই পর্যন্ত সর্বমোট ১২৫৯টি প্রকল্প সম্বলিত তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে।
বাউরেসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিদায়ী পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু হাদী নূর আলী খান।
বৃহস্পতিবার (১২ মে) দুপুরে বাউরেসের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনটি হয়।
এসময় আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর বাউরেসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান ড. আবু হাদী নূর আলী খান। তার অধীনে তিনটি বার্ষিক গবেষণা অগ্রগতি কর্মশালা হয়েছে। এই সময়ে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১১ জন কৃষককে প্রফেসর ড. আশরাফ আলী খান স্মৃতি কৃষি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ৫০ জন শিক্ষককে ‘গ্লোবাল রিসার্চ ইমপ্যাক্ট রিকোগনাইজেশন অ্যাওয়ার্ড’দেওয়া হযেছে। বিগত দুই বছরে ৮টি জার্নাল ইস্যু প্রকাশ করা হয়েছে। বাউরেস কর্তৃক প্রকাশিত জার্নালটি আধুনিকায়ন করে সম্পূর্ণরূপে অটোমেশন করা হয়েছে।
ড. আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে গবেষণার আওতায় এনে গবেষণা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা বাউরেসের ইতিহাসে প্রথম। প্রায় ১ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সব ঘাটতি কাটিয়ে বর্তমানে সব গবেষণা প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৯ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়াও আগামী জুলাইয়ে এই বরাদ্দ ১১ কোটি টাকায় উন্নীত করার চেষ্টা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে শুধু প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের জন্য এই বছরের জানুয়ারি থেকে ৪৬টি গবেষণা প্রকল্পের জন্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
ড. আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, ‘গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল প্রকাশনাকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বাউরেসের আওতাধীন প্রতিটি প্রকল্পের জন্য গবেষককে ক্ষেত্রবিশেষে ১০০ ডলার থেকে ১ হাজার ডলার মূল্যের অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। গত দুই বছরে গবেষণা প্রকল্পের অধীনে ২৬৮ জন এমএস (মাস্টার্স) ফেলোকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা হারে মোট ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অর্থ সহায়তা বৃদ্ধির ফলে ২০২১ সালে বাকৃবি গবেষকরা ৫৫৮টি গবেষণা প্রকল্প স্কোপাস জার্নালে প্রকাশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। বাউরেসে বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ৩৫ কোটি টাকার গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইউজিসি থেকে বিশেষ বরাদ্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা থেকে এই অর্থ আসে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাউরেসের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে. এম. মমিনুল ইসলাম, সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পরেশ কুমার শর্মা এবং বাকৃবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক দীন মোহাম্মদ দীনু।

