সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পশ্চিমবঙ্গে পি কে হালদার ও সুকুমার মৃধার ‘অবৈধ’ সম্পত্তি

আপডেট : ১৫ মে ২০২২, ২৩:৩০

শনিবার পশ্চিমঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশের অর্থপাচার মামলার আসামি পি কে হালদার। এর আগে তার ও তার সহযোগীদের সম্পত্তির খোঁজে অভিযান শুরু করে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

শুক্রবার ভোরে বাংলাদেশে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার মামলার আসামি প্রশান্ত কুমার হালদারের বা পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধার সম্পত্তির সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুরুতে উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগরের এই বাড়িতে হানা দেয় তারা।

তল্লাশির পর তিনতলা বাড়িটি সিলগালা করে দেয় ইডি। ফটকে লাগিয়ে দেয়া হয় নোটিশ। তাতে বলা হয়েছে, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন ২০০২ এর আলোকে বাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। তাই সেখান থেকে কোনো সম্পত্তি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বা অনুমতি ছাড়া সরাতে বা পরিবর্তন করতে পারবে না কেউ।

অশোকনগরে সুকুমার মৃধার আরও একটি বাড়ির খোঁজ মেলে৷ সেখানেও তল্লাশি চালায় ইডি। তিনি বাংলাদেশের পলাতক আসামি পি কে হালদারের আয়কর আইনজীবী ছিলেন। পি কে হালদারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের করা অর্থ পাচারের মামলায় গত বছর সুকুমার ও তার মেয়ে গ্রপ্তার হন। তখন থেকেই তারা বাংলাদেশের কারাগারে আছেন।

তল্লাশির পর তিনতলা বাড়িটি সিলগালা করে দেয় ইডি

সুকুমার মৃধার কয়েকটি বাড়ি পরই তার আত্মীয় প্রণব হালদারের বাড়ি। সেখানেও তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। তবে প্রণব হালদার ও তার পরিবার ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেছেন সুকুমার মৃধার ব্যবসার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা তাদের নেই। তল্লাশির মাধ্যমে তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশের পেশায় আয়কর আইনজীবী হলেও পশ্চিমবঙ্গে তিনি মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন স্থানের তার মাছের ভেড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে। অশোকনগরে তার বাড়ির ভিতরেই রয়েছে একটি।

বাংলাদেশের নাগরিক সুকুমার মৃধা প্রায়ই পশ্চিমবঙ্গে থাকতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পিন্টু দাস নামের এই ব্যক্তি জানান, ‘সুকুমার মৃধা খুব ধনী লোক বাংলাদেশও ওর সম্পত্তি আছে শুনেছি, বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে ক্লাব থেকে ১০০ লোক ডেকে খাওয়াতো। প্রত্যেক বছর পাড়ার পুজোর সভাপতি হতো এবং ভালো টাকা ডোনেশন দিতো।’

স্থানীয় বাসিন্দা বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তী জানান, ‘আমরা ওনাকে ধনী ব্যক্তি হিসেবে চিনি। আমাদের কোনোরকম সন্দেহ হয়নি কারণ আমরা জানি বাংলাদেশে ওনার ঘর-বাড়ি আছে ও কাজ করে ওখান থেকে টাকা পয়সা নিয়ে আসে। তারপর শুনি এই ঘটনা ইডির লোকজন এসে বাড়ি সিল করে দিয়ে যায়।’

অশোকনগরে সুকুমার মৃধার আরো একটি বাড়ির খোঁজ মেলে৷ সেখানেও তল্লাশি চালায় ইডি৷

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রিতীশ কুমার হালদার, প্রনেশ কুমার হালদার ও তাদের সহযোগীদের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গের ১০টি জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছে। এই ব্যক্তিরা বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে বলেও উল্লেখ করেছে ইডি।

এই অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বাংলাদেশে পলাতক আসামী পি কে হালদারেরও খোঁজ পায় ইডি। তিনি অবৈধভাবে কাগজপত্র সংগ্রহ করে সেখানে শিবশঙ্কর হালদার নামে বসবাস করছিলেন। ইডি বলছে, তিনি ও তার সহযোগীরা কলকাতার মেট্রোপোলিসসহ বিলাসবহুল সব এলকায় অবৈধভাবে বহু সম্পত্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা অর্জন করেছেন। তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় ইডি।

এদিকে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পি কে হালদার ওয়ান্টেড ব্যক্তি, ইন্টারপোলের মাধ্যমে অনেক দিন ধরে তাকে চাচ্ছি৷ ...সে গ্রেপ্তার হয়েছে, তবে আমাদের কাছে এখনও (ভারত থেকে) অফিসিয়ালি কিছু আসেনি।’ এর আগে শনিবার তিনি বলেছিলেন, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে যত দ্রুত সম্ভব বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

ইত্তেফাক/টিআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কতটা টিকবে মমতার বিরোধী জোট

প্রভাব খাটিয়ে মেয়েকে চাকরি, মন্ত্রীকে সরানোর নির্দেশ

পি কে হালদারের সহযোগীর অবৈধ সম্পত্তির খোঁজে ভারতে অভিযান

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ও তৃণমূল বিধায়কদের হাতাহাতি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতা খুনের জেরে বাড়ি বাড়ি আগুন, নিহত ১০

পশ্চিমবঙ্গে ফের তৃণমূলের হয়ে কাজ শুরু আইপ্যাকের

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ তুললো পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গের চার পৌরসভায় তৃণমূলের বিরাট জয়