শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সামনের দিনগুলির দিকে দৃষ্টি দিতে হইবে

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ১০:৫৫

সকল কিছু মিলাইয়া বিশ্বের জন্য অদূর ভবিষ্যতেও কোনো ভালো সংবাদ নাই। বিশেষ করিয়া, উন্নয়নশীল বিশ্ব কতটা দুর্দশায় পতিত হইতে পারে, তাহার ভয়াবহ সকল আলামত সুস্পষ্ট হইয়া উঠিতেছে। দুই বত্সরাধিককাল গোটা পৃথিবী ভুগিয়াছে এক কঠিন কোভিড সংক্রমণে। ধনী-দরিদ্র সকল দেশেই রাস্তাঘাট অফিস-আদালত, এমনকি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, আমদানি রপ্তানি, বন্ধ হইয়াছিল। দুর্বল অর্থনীতির অনেক দেশ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করিতে গিয়াই মুখ থুবড়াইয়া পড়িয়াছে। তাহার পরপরই আসিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই দুইটি দেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান খাদ্য গমের রপ্তানিকারক। রাশিয়া বিশ্বের সবচাইতে বড় গম রপ্তানিকারক দেশ। কিন্তু যুদ্ধের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে এই সরবরাহ বন্ধ হইয়া গিয়াছে। আক্রমণের শিকার ইউক্রেনও বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ গম উত্পাদনকারী দেশ। এই যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন হইতেও সরবরাহের কোনো পথ খোলা নাই। উল্লেখ্য, শুধু গমই নহে, বাংলাদেশ এই দেশ দুইটি দেশ হইতে ডাল, ইস্পাত, সার, বীজও আমদানি করিয়া থাকে। শুধু বাংলাদেশ নহে, বিশ্বব্যাপী তাহাদের রপ্তানি বন্ধ হইয়া গিয়াছে।

ইহা কমবেশি আমরা জানিতে পারিয়াছি। কিন্তু যাহা আরো বড় দুঃসংবাদ লইয়া আসিয়াছে তাহা হইল যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ইহা মড়ার উপর আরেকবার আক্ষরিক অর্থেই খাঁড়ার ঘা হইয়া উঠিয়াছে। ঘনঘন হ্যারিকেন, টর্নেডোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের যে খরা দেখা দিয়াছে তাহা কেবল মাত্রাতিরিক্তই নহে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের খরা ইতিহাসের যে কোনো সময়ের চাইতে ভয়াবহ আকার ধারণ করিয়াছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল ইনফরমেশন জানাইয়াছে, কয়েক বত্সর ধরিয়াই যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃতি বৈরী আচরণ করিতেছে। ২০২২ সালের প্রথম তিন মাসের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এতই কম হইয়াছে, যাহা ইতিহাসের কখনোই হয় নাই। এই খরা সামনের দিনগুলিতে আরো বাড়িবে বলিয়া প্রতিষ্ঠানটি জানাইয়াছে। শুধু ঝড়-খরাই নহে, দাবানল দেশটিকে কাবু করিয়া ফেলিতেছে। দেশটির ন্যাশনাল ইন্টার এজেন্সি ফায়ার সেন্টার হিসাব করিয়া বলিয়াছে, গত জানুয়ারি মাস হইতে রিপোর্ট প্রকাশ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ হাজার ২৯৬টি দাবানল ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়াছে, যাহাতে ৮ লক্ষ ২০ হাজার একর জমির মাটি পুড়িয়া চাষাবাদের অনুপযোগী হইয়া গিয়াছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সকল সংবাদও উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য একটি দুশ্চিন্তার কারণ। যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাণিজ্যিকভাবে খাদ্য রপ্তানিই করে না। বিশ্বব্যাপী ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের ৪৮ শতাংশ খাদ্য সাহাঘ্য তাহারাই দিয়া থাকে। যুক্তরাষ্ট্রকে বলা হইয়া থাকে ফুড-ব্যাংক। যেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী দরিদ্র দেশগুলিতে ১ কোটি ৪০ লক্ষ শিশুর পুষ্টির জন্য পুষ্টিসহায়তা দিয়া থাকে, সেই যুক্তরাষ্ট্রেরই দোকানে দোকানের শিশুখাদ্যের তাকগুলি খালি পড়িয়া আছে বলিয়া সম্প্রতি গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ পাইয়াছে। মুশকিল হইল, ধনী দেশগুলি বিপদে থাকিলে বাঁচাইয়া রাখিবার মতো নূন্যতম সাহাঘ্য লইয়া আগাইয়া আসিবার কেহ থাকিবে না। ইতিমধ্যে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশ রীতিমতো হিমশিম খাইতে শুরু করিয়াছে। ইথিওপিয়াসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ শুরু হইয়াছে। অন্যদিকে পরিস্থিতি সামনের দিনগুলির বিপদ বুঝিতে পারিয়া দেশ হইতে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়াছে। ইহা ছাড়াও অনেক পণ্যের মূল্য এতটাই ঊর্ধ্বমুখী যে আমদানিকারক দেশের ঐ সকল পণ্য আমদানিতে কোনো ইতিবাচক ফল আসিবে না।

সুতরাং প্রতিটি সরকারের পরিস্থিতি সঠিকভাবে অনুধাবন করিতে হইবে। ঘাটতি যখন শুরু হয়, অভাব যখন শুরু হয় তখন কৃচ্ছ সাধন ও ধৈর্যধারণই সর্বোত্তম পথ। ইহা আমাদেরকেও স্মরণ রাখিতে হইবে।

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

‘বুঝিবে সে কীসে, দংশেনি যারে’

কোনো কিছুই ভালো যাইতেছে না!

এই প্রবণতা বন্ধ করা উচিত

আত্মতৃপ্তি লাভ মানে যবনিকা পতন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

দুখু মিয়াদের দুঃখ করিবার কারণ নাই!

প্রকৃতির প্রতি সুবিবেচনার সময় আসিয়াছে

স্বপ্ন আজ সত্য হইয়া ধরায় নামিল

স্বপ্ন ভাঙিয়া যায় বাস্তবতার করাঘাতে