শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চট্টগামে রোগ নির্ণয় যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা হয় না!

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ১১:১২

চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগ নির্ণয়ের মেশিনগুলো সময় মতো ক্যালিব্রেশন (কার্যকারিতা পরীক্ষা) করা হচ্ছে না। ক্যালিব্রেশন ছাড়াই বছরের পর বছর ব্যবহার হচ্ছে। কোন মেশিন নষ্ট না হলে হাত দেওয়া হয় না। অথচ নির্ভুল রিপোর্টের জন্য ক্যালিব্রেশন জরুরি। ফলে প্রায় সময় ভুল রিপোর্টের অভিযোগ আসে। এক প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে গরমিল দেখা যায়। ভুল রিপোর্টের কারণে ভুল চিকিৎসারও শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

জানতে চাইলে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ল্যাবের প্রধান ডা. শাকিল আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্যালিব্রেশন করার জন্য সরকারি ভাবে কোন নীতিমালা নেই, প্রতিষ্ঠানও নেই। আন্তর্জাতিক মান রক্ষা হচ্ছে কিনা তা তদারকি হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে চলছে।’

চট্টগ্রামে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সরকারি হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের অসংখ্য মেডিক্যাল যন্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিটি স্ক্যান,এমআরআই,ক্যান্সারের কোবাল্ড মেশিন,এক্স-রে, মেমোথেরাপি,এনজিওগ্রাম,আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, ইটিটিসহ নানা ধরনের রোগ নির্ণয়ের মেশিন। কোন মেশিন প্রতিদিন আবার কোনটা সপ্তাহে, মাসে, ছয় মাসে বা প্রতি বছর পরীক্ষা করে সঠিক ভাবে রিডিং দিচ্ছে কিনা তা দক্ষ লোক দিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন চিকিত্সকের পরামর্শ মত রোগীরা রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করে থাকেন। কিন্তু রোগ নির্ণয়ের এসব প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রগুলো যথাযথ ভাবে ক্যালিব্রেশন হচ্ছে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেশিনগুলো স্থাপন করে চলে যায়। চুক্তি অনুসারে ৩ বছরের মধ্যে মেশিনের সমস্যা দেখা দিলে মেরামত করে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু মেশিন একবার অচল হলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোক আনতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। ফলে ভুল মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে ঝুঁকি বেড়েছে। আবার অনেক রোগী দেশে চিকিৎসা লাভে ব্যর্থ হয়ে বিদেশে চিকিত্সার জন্য চলে যাচ্ছেন। দেখা গেছে, বিদেশে পরীক্ষার রিপোর্টের সঙ্গে দেশের মেডিক্যাল রিপোর্টের সত্যতা মিলে না।

সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি চট্টগ্রামের পরিচালক মোহাম্মদ কাইয়ুম ইত্তেফাককে বলেন, ‘রোগ নির্ণয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের মেশিন রয়েছে। কোন মেশিন প্রতিদিন আবার কোন মেশিন বিভিন্ন মেয়াদে ক্যালিব্রেশন করতে হয়। আমাদের দেশের ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে মেশিনের ক্যালিব্রেশন কাজ হচ্ছে না। যথাসময়ে ক্যালিব্রেশন নির্ভুল রিপোর্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে চট্টগ্রামের বৃহৎ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার শেভরনের জেনারেল ম্যানেজার পুলক পাড়িয়াল ইত্তেফাককে বলেন, ‘মেশিন কেনার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্যালিব্রেশন করে দিয়েছেন। আমরা প্রতিদিন সকালে ক্যালিব্রেশন করে কার্যক্রম শুরু করি। ক্যালিব্রেশন করার নিজস্ব লোক রয়েছে আমাদের। সরকারি প্রতিষ্ঠানের লোক দিয়ে বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশন করতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই।’

সূত্র জানায়, বিকিরণ উৎস ও বিকিরণ সংশ্লিষ্ট উপকরণ পরিদর্শন সাপেক্ষে লাইসেন্স প্রদান করে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট আমদানি ও ব্যবহারিক লাইসেন্স নিতে হয়। লাইসেন্সে নির্ধারিত সময়ে ক্যালিব্রেশন করার শর্ত উল্লেখ থাকে। জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষের কারিগরি বিভাগ এবং বিকিরণ,পরিবহণ ও বর্জ্য নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘মেশিন গুলো রক্ষণাবেক্ষণের শর্ত লাইসেন্সে উল্লেখ থাকে। রেডিওলজিক্যাল মেশিনগুলো বছরে একবার ক্যালিব্রেশন করতে হয়। কিন্তু ব্যবহারকারীদের ক্যালিব্রেশন করতে বাধ্য করার জন্য এখনও আইন তৈরি হয়নি।’

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

চট্টগ্রামে পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গতি নেই

ছিনতাইয়ের অভিযোগে ভুয়া পুলিশ সদস্য গ্রেফতার 

চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক গুদামে রাখা হচ্ছে কেমিক্যাল দ্রব্য

চট্টগ্রামে বৃষ্টি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা কাটছেই না

মিরসরাইয়ের পাহাড়ি ঝরনায় বাড়ছে প্রাণহানি

নাপিত্তাছড়া ঝরনায় নিখোঁজ তিন পর্যটকের লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামে আবারও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা, বাড়ছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি