বাগেরহাটে ভাইরাসে মরে যাচ্ছে চিংড়ি

আপডেট : ১৮ মে ২০২২, ০৯:৫৬

বাগেরহাটে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও ভাইরাসে আশঙ্কাজনক হারে বাগদা চিংড়ি মারা যাচ্ছে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘেরের ছোট-বড় চিংড়ি মরে লাল হয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন মৌসুমের শুরুতে বাগদা চিংড়ির মড়কে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। পুঁজি হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, অল্প পানি, হঠাৎ বৃষ্টি ও হোয়াইট স্পট ভাইরাসে কারণে চিংড়ি মরছে বলে ধারণা জেলা মৎস্য বিভাগের।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলায় এবার ৬৬ হাজার ৭১৩ হেক্টর জমিতে ৭৮ হাজার ৬৮৫টি চিংড়ির চাষ হয়েছে। প্রায় ৭৩ হাজার চাষি এসব চিংড়ি চাষ করছেন। এর মধ্যে মোংলা, রামপাল, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট সদর ও কচুয়া উপজেলায় সব থেকে বেশি চাষ হয় বাগদার। বর্তমানে চার উপজেলাতেই বাগদায় মড়ক লেগেছে। এর ফলে শত কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হবে বলে দাবি চাষিদের।

রামপাল উপজেলার মুজিবনগর এলাকার চাষি মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, আর কয়েক দিন পরই মাছ বিক্রির উপযোগী হতো। এরই মধ্যে মাছে মড়ক লেগেছে। যখন দুই-একটা করে মাছ মরছিল, তখন দোকান থেকে বিভিন্ন ওষুধ দিয়ে মড়ক ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। হুড়কা গ্রামের চাষি তারক রায় বলেন, নানা পরামর্শ নিয়েও চিংড়ির মড়ক ঠেকানো যাচ্ছে না। সদর উপজেলার কাড়াপাড়া এলাকার চিংড়িচাষি আবুল হাসান বলেন, ঋণ করে ছয় বিঘা জমি লিজ নিয়ে বাগদা চিংড়ি চাষ করেছিলাম। কিন্তু চিংড়ি যখন বিক্রি যোগ্য হয়েছে, তখনই ভাইরাস লেগে সব মরে গেল।

বাগেরহাট জেলা চিংড়িচাষি সমিতির সভাপতি সুমন ফকির বলেন, দিন দিন বাগেরহাটে চিংড়ি চাষের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। একদিকে পোনা সংকট অপরদিকে রোগের প্রাদুর্ভাব। এভাবে চলতে থাকলে দরিদ্র চিংড়িচাষিরা নিঃস্ব হয়ে যাবে। বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল বলেন, জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে রামপালের চারটি ইউনিয়নে বেশি চিংড়ি মারা যাচ্ছে। মারা যাওয়া চিংড়ির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা করছি আমরা।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি অতিরিক্ত গরম, হোয়াইট স্পট ভাইরাস বা মৌসুমের শেষে ভাইরাস যুক্ত চিংড়ি ঘেরে ছাড়ার কারণে এমনটা হতে পারে। এছাড়া আরো কিছু জায়গাতেও চিংড়ি মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

ইত্তেফাক/এমআর