সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারাসহ বেশ কয়েকটি নদীর হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন অঞ্চল ও শহরে নদীর পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে প্লাবিত হচ্ছে চাষাবাদ জমি, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আকস্মকি এ বন্যায় বেকায়দায় পড়েছে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ বিছিন্নতার দুর্ভোগ আর বিশুদ্ধ পানির অভাবে দিন কাটাচ্ছে পানিবন্দী মানুষজন।
ইতিমধ্যে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিবন্দী, সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করেনি। বন্ধ করেনি শ্রেণি কক্ষের পরীক্ষাও। এমনি অবস্থায় বাড়িতে পানিবন্দী শিক্ষার্থীরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে গন্তব্যে পৌছতে হিমশিম খাচ্ছে।
এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সিলেট নগরীর উপশহরের বাসিন্দা ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিস পাশা মবীন। শিক্ষার্থী মবীন বলেন, দুই তিন ধরে ধরে বিদ্যালয়ে যেতে পারছিনা, পুরো বাড়িতে পানি ঢুকে যাওয়ায়। কিন্তু স্কুলে পরীক্ষা চলছে। তাই উপায় না পেয়ে মোবাইলের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। আবার সেখানে আরেক দশা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ঠিকভাবে মোবাইলে চার্জ দিতে পারছিনা। কি করবো বুঝতে পারছিনা। একী দশায় উপশহরের সিলেট জালালাবাদ ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারদিন আহমদ।
শিক্ষার্থী ফারদিন জানান, উপশহরের পুরো এলাকায় জুড়ে বন্যায় পানি বন্দি মানুষ। ঘরেও পানি। কিন্তু স্কুলে পানি ঢুকেনি বলে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। কোনোভাবে যাওয়া সম্ভব নয় বলে ৩/৪দিন ধরে স্কুলে যাওয়া হয়নি।
এসময় উপশহরের বাসিন্দা শিক্ষার্থীর অভিভাবক ফারুক আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সবাই দেখছে সিলেট নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় হঠাৎ বন্যা দেখা দেওয়ায় মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষরা এসব বিবেচনা না করে শ্রেণি কক্ষে এখনো পাঠদান কার্যক্রমসহ পরীক্ষা নিয়ে যাচ্ছে। কিভাবে শিক্ষার্থীরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যাপীঠে যাবে?
এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সিলেট বিভাগের পরিচালক প্রফেসর মো. আব্দুল মান্নান খান প্রতিবেদককে বলেন, সরকারি অধীনে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানিবন্দি আছে, সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ আছে। কিন্তু পানি বন্দি এলাকার যেসব শিক্ষা এখনো পানিতে তলিয়ে যায়নি বলে খোলে রেখেছে এখনো, সেগুলো বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত।
