বন্যায় প্লাবিত বিশ্বনাথের ৩ ইউনিয়ন

আপডেট : ১৯ মে ২০২২, ১৮:০৯

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার তিন ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে উপজেলার লামাকাজী, খাজাঞ্চী ও অলংকারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘর, হাট-বাজার, মসজিদ, স্কুল-কলেজ তলিয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির।

ইতিমধ্যে লামাকাজী ইউনিয়নের মাহতাবপুর এলাকায় নদীর তীরে চলমান ব্লক বসানোর কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার (সঠিক সময়ে ব্লক না বসানো) কারণে বন্যার পানিতে ভেঙে অনেক বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজনের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু নিয়েও বিপাকে রয়েছেন মানুষ।

সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ইতিমধ্যে সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফলে জনসাধারণকে ব্যবহার করতে হচ্ছে নৌকা-ভোরা।

বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নুসরাত জাহান।

অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল জানান, বন্যার পানিতে ইতিমধ্যে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড নিমজ্জিত হয়ে গেছে। আর যে হারে পানি বাড়ছে তাতে পুরো ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলার মাহতাবপুর এলাকার নদীর তীরে ব্লক বসানোর কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে অনেক বাড়ি-ঘর ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে জানিয়ে লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বন্যার পানি প্রবেশ করছে। বেশির ভাগ গ্রামের মানুষ পানি বন্দি রয়েছেন। এলাকার নিম্নাঞ্চল রাস্তাগুলোও তলিয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নুসরাত জাহান বলেন, বিশ্বনাথের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ত্রাণের জন্য ৬ মেট্টিক টন চাল পেয়েছি। আরও ত্রাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। 

 

ইত্তেফাক/ইউবি