আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। বর্ষার শুরুতেই কালনী-কুশিয়ারার নদীর এই অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ৩০-৪০টি বাড়িঘর ইতিমধ্যে ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙন আরো ব্যাপক আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্হানীয় লোকজন জানান, বিগত কয়েক বছরে কাকাইলছেও ইউনিয়নের বদলপুর, মনিপুর ও বাহাদুরপুর গ্রামের শত শত বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্হাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরো শতাধিক বাড়িঘর। এর মধ্যে অনেকেই নদীতীর থেকে বাড়িঘর নিরাপদ স্হানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
জাহের আলী নামের এক ব্যক্তি, ভিটেমাটি ও বাড়িঘর হারিয়ে সপরিবারে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। মনিপুর গ্রামের নুর জাহান বেগম জানা, তার স্বামী দিনমজুরের কাজ করেন অপরের কৃষিজমিতে। বর্তমানে নদী যেভাবে বাড়িঘর নিয়ে যাচ্ছে তাতে কোথায় গিয়ে উঠবেন ভাবতে পারছেন না। বাহাদুরপুর গ্রামের ঝর্ণা আক্তার বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করলে আমরা ছেলেমেয়ে নিয়ে এখানে থাকতে পারব। বদলপুর গ্রামের মঙ্গল সূত্রধর বলেন, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্হা নেওয়া প্রয়োজন।
মজিদ মিয়া, জয়দর আলী, গোলাপ মিয়া, রাজ্জাক মিয়া, জয়নাল মিয়া, বাদশা মিয়া ও তালেব আলী বলেন, নদীর অব্যাহত ভাঙনে আমরা উত্কণ্ঠিত। এ ব্যাপারে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাকাইলছেও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করা হবে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, কালনী-কুশিয়ারা নদীর ভাঙন সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।
