বৃষ্টির সময় মুমিনের করণীয় 

আপডেট : ২০ মে ২০২২, ০৮:৩০

আল্লাহতায়ালার অন্যতম নেয়ামত হলো বৃষ্টি। আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণের সঙ্গে আল্লাহ অনেক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের রিজিক উৎপন্ন বা বণ্টিত হয়ে থাকে। মূলত আল্লাহর হুকুম ছাড়া এই বৃষ্টি বর্ষিত হয় না। ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃজন করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে। অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জন্য ফলের রিজিক উৎপন্ন করেছেন এবং নৌকা/জাহাজকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন, যাতে তার আদেশে সমুদ্রে চলাফেরা করে এবং নদনদীকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন’ (সুরা ইবরাহিম :আয়াত ৩২)।

হাদিস শরিফে আছে, নবি করিম (সা.) বৃষ্টিতে একবার বের হয়েছিলেন এবং শরীরে পানি লাগিয়েছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কেন তিনি এমনটি করেছেন? তখন তিনি বললেন, বৃষ্টিকে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বরকত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বান্দার প্রতি বেশি খুশি হলে তিনটি জিনিস দান করেন। সেগুলো হলো- কন্যাসন্তান, মেহমান ও বৃষ্টি। বর্ষা মৌসুমে অধিক বৃষ্টি হয়। বৃষ্টি বেশি হলেই অনেকে নানান কথা বলে থাকেন। প্রিয় নবি (সা.) বৃষ্টিবর্ষণ ও বজ্রপাত সম্পর্কে বলেছেন, মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন, ‘আমার বান্দারা যদি আমার বিধান যথাযথভাবে মেনে চলত, তবে আমি তাদের রাতের বেলায় বৃষ্টি দিতাম আর সকালবেলায় সূর্য (আলো) দিতাম আর কখনো তাদের বজ্রপাতের আওয়াজ শোনাতাম না।’ (মুসনাদে আহমদ)

কাবা শরিফে বৃষ্টি মধ্যে দোয়ারত এক মুসুল্লি।

বৃষ্টির সময় করণীয় :১. দোয়া পড়া :বৃষ্টি শুরু হলে রসুলুল্লাহ (সা.) কল্যাণ ও উপকার পেতে তিন শব্দের ছোট্ট একাটি দোয়া বেশি বেশি পড়তেন। তা হলো, ‘আল্লাহুম্মা সাইয়্যেবান নাফিআ।’ (বুখারি, নাসাঈ) অর্থ :‘হে আল্লাহ! আপনি মুষলধারায় যে বৃষ্টি দিচ্ছেন, তা যেন আমাদের জন্য উপকারী হয়।’ এ দোয়া পড়লে আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টির ক্ষতিকর দিকগুলো দূর করে দেবেন এবং কল্যাণকর ও উপকারী বৃষ্টি দান করবেন।

২. বৃষ্টিতে অল্প সময় ভেজা :বৃষ্টি মানুষের জন্য রহমতস্বরূপ। আল্লাহর রহমত ও বরকত পেতে কিছু সময় বৃষ্টিতে ভেজার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে—হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমরা রসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে থাকাকালীন একবার বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। রসুলুল্লাহ (সা.) তার পরনের কাপড়ের কিছু অংশ তুলে ধরলেন, যাতে তার শরীরে কিছুটা বৃষ্টির পানি পড়ে। এরকম করার কারণ জানতে চাইলে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এটা (বৃষ্টি) এইমাত্র আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে।’ (মুসলিম)

৩. দোয়া কবুলের সুযোগ নেওয়া :প্রিয় নবি রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দুই সময়ের দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। এক. আজানের পরে করা দোয়া। দুই. বৃষ্টির সময় করা দোয়া।’ (আল-হাকিম) তাই এ সময় নিজেদের চাওয়া-পাওয়াগুলো পেশ করে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে রোনাজারি করা জরুরি।

৪. বৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাওয়া :ঝড়-বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে দোয়া করাও সুন্নত।

৫. বজ -বৃষ্টির সময় পৃথক দোয়া করা :হাদিসে এসেছে—হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) তার বাবা থেকে বর্ণনা করেছেন, রসুলুল্লাহ (সা.) যখন বজ্রের শব্দ শুনতেন বা বিদ্যুত চমক দেখতেন তখন সঙ্গে সঙ্গে বলতেন—উচ্চারণ :‘আল্লাহুম্মা লা তাক্বতুলনা বিগাদাবিকা ওয়া লা তুহলিকনা বিআজাবিকা, ওয়া আ’ফিনা ক্ববলা জালিকা।’ (তিরমিজি) অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! তোমার ক্রোধের বশবর্তী হয়ে আমাদের মেরে ফেলো না আর তোমার আজাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস কোরো না। বরং এর আগেই আমাদের ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে নাও।’

৬. উপকারী বৃষ্টির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা :রসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন, ‘যে ব্যক্তি (বৃষ্টির পর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের) এই দোয়া পাঠ করে, সে আমাকে বিশ্বাস করে আর তারকায় (তারার শক্তিতে) অবিশ্বাস করে। তাহলো—‘মুত্বিরনা বিফাদলিল্লাহি ওয়া রাহমাতিহি’। অর্থ :‘আমরা আল্লাহর দয়া ও করুণার বৃষ্টি লাভ করেছি।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

লেখক :প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি

ইত্তেফাক/ ইআ