ফেসবুকে আপত্তিকর দৃশ্য চোখে পড়লে কি অজু ভেঙে যায়? জেনে নিন শরিয়তের বিধান

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। তবে ফেসবুকের পাতায় স্ক্রল করার সময় প্রায়ই নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর ছবি, ভিডিও কিংবা বিজ্ঞাপনের দৃশ্য সামনে চলে আসে। একজন মুমিন ব্যক্তি সর্বদা অজুর পবিত্রতা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকেন। তাই এমন বিভ্রান্তিকর ও অশ্লীল কনটেন্ট হঠাৎ নজরে পড়লে মনে দ্বিধা ও সংশয় জাগে—এতে কি অজু নষ্ট হয়ে যায়? ধর্মীয় বিধান ও আত্মিক পবিত্রতার স্বার্থে এ বিষয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা জানা অত্যন্ত জরুরি।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসারে, ফেসবুক স্ক্রল করার সময় হঠাৎ কোনো আপত্তিকর বা অশ্লীল কনটেন্ট সামনে চলে এলে এবং তা আকস্মিকভাবে চোখে পড়লে সরাসরি অজু ভেঙে যায় না। অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো দৃশ্যের ওপর নজর পড়া অজু ভঙ্গের কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে সেই দৃশ্য সামনে আসার পরও স্ক্রিন না সরিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকিয়ে থাকা বা উপভোগ করা কবিরা গুনাহ। এর ফলে অজু আনুষ্ঠানিকভাবে না ভাঙলেও অজুর আত্মিক নূর, পবিত্রতা ও সওয়াব মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।

ইসলামে দৃষ্টির পবিত্রতা রক্ষা ও তা সংযত রাখার ব্যাপারে মহান আল্লাহ তাআলা সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ

‘মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।’ (সুরা আন-নূর: আয়াত ৩০)

অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হঠাৎ কোনো নারীর প্রতি বা আপত্তিকর স্থানে নজর পড়ে যাওয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুস্পষ্ট সুন্নাহ রয়েছে। হাদিসে এসেছে, হজরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَظَرِ الْفَجْأَةِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَصْرِفَ بَصَرِي

‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হঠাৎ (অনাকাঙ্ক্ষিত) নজর পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে তাৎক্ষণিক দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২১৫৯)

তবে কোন পরিস্থিতিতে অজু নষ্ট হতে পারে, সে বিষয়ে ফিকহের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। আপত্তিকর কোনো দৃশ্য দেখার সময় যদি অন্তরে তীব্র কামভাব বা উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে শরীর থেকে ‘মজি’ (যৌন উত্তেজনার সময় নির্গত পাতলা পিচ্ছিল তরল) বের হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই অজু ভেঙে যাবে এবং পুনরায় অজু করা আবশ্যক হবে। কিন্তু যদি শারীরিক এমন কোনো নিঃসরণ না ঘটে, তবে কেবল চোখ পড়ার কারণে অজু বাতিল হবে না।

ডিজিটাল দুনিয়ার নানা ফেতনা থেকে নিজের ইমান ও আমলকে সুরক্ষিত রাখতে স্ক্রল করার সময় এমন কিছু সামনে আসামাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া এবং দ্রুত স্ক্রিন পার করে দেওয়া একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। কারণ প্রথম আকস্মিক নজরের জন্য গোনাহ না হলেও দ্বিতীয়বার তাকিয়ে থাকা গুনাহের শামিল। পাশাপাশি এমন দৃশ্য চোখে পড়ার সাথে সাথেই ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ে মহান রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত, যাতে অন্তরের শুভ্রতা ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতা বজায় থাকে।

ইত্তেফাক/এনএন