বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পঞ্চগড়ে প্রতি কেজি কাঁচা চা-পাতার মূল্য ১৮ টাকা নির্ধারণ

আপডেট : ২০ মে ২০২২, ০৯:৪০

দীর্ঘ ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চা-চাষিদের সঙ্গে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা মালিকদের তুমুল বিতর্কের পর নতুন করে কাঁচা চা-পাতার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি কাঁচা চা-পাতার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ টাকা। পানিযুক্ত বা ভেজা কাঁচা চা-পাতা সরবরাহ করলে শতকরা ১০ ভাগ কর্তন করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কাঁচা চা-পাতার মূল্য নির্ধারণ কমিটির সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম এই মূল্য ঘোষণা করেন। 

গত বুধবার বিকালে কাঁচা চা-পাতার ন্যায্যমূল্য চাই চা-চাষিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাঁচা চা-পাতা মূল্য নির্ধারণ কমিটির সভা আহ্বান করেন জেলা প্রশাসন। বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই সভার কার্যক্রম চলে। সভায় কাঁচা চা-পাতার মূল্য নিয়ে চা-চাষি, চা-চাষি সমিতির নেতৃবৃন্দ ও চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা মালিকদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়।

চা-চাষিরা বলেন, কারখানা মালিকরা স্থানীয়ভাবে নিলাম বাজারের চেয়ে বেশি দামে চা-পাতা বিক্রয় করছে, কিন্তু আমরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। চা-চাষিদের নেতা কামরুজ্জামান শেখ মিলন, আবু সাঈদ ও আমিরুল হক খোকন বলেন, বর্তমানে এক কেজি কাঁচা চা-পাতায় উৎপাদন খরচ হয় প্রায় ১৭ টাকা কিন্তু কারখানার মালিকরা চা-পাতা ক্রয় করছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকায়। এভাবে চলতে থাকলে চা-চাষে উত্সাহ হারাবে কৃষক। দেশে মোট চায়ের উৎপাদনে দ্বিতীয় পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চল। কিন্তু এখানকার চা-চাষিরা কাঁচা চা-পাতার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। চা বোর্ড চা-চাষিদের চা-চাষে উত্সাহ দিলেও কাঁচা চা-পাতার ন্যায্যমূল্যের বিষয়ে কোন ভূমিকা রাখছেন না। সরকারিভাবে বা চা বোর্ড এখানে চা-কারখানা স্থাপন করলে চা-চাষিরা কাঁচা চা-পাতার ন্যায্যমূল্য পেত বলে দাবি করেন তারা।

কারখানা মালিকরা বলেন, নিলাম বাজারে চায়ের দরপতন, গুণমানসম্পন্ন চা-পাতা সরবরাহ করতে না পারায় লোকসান হচ্ছে তাদের। চায়ের নিলাম বাজার যখন ভালো ছিল তখন ২৪ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে কাঁচা চা-পাতা ক্রয় করা হয়েছে। বর্তমানে নিলাম বাজারে সিলেটের চায়ের থেকে পঞ্চগড়ের চায়ের মান নিম্ন হয়েছে। ‘দুটি পাতা একটি কুড়ি’—এই নীতি না মেনে বাগান থেকে চা-পাতা সংগ্রহ করছেন চা-চাষিরা। এ কারণে মানসম্পন্ন চা উৎপাদন হচ্ছে না। কাঁচা চা-পাতার মূল্য বাড়াতে আপত্তি জানান কারখানা মালিকরা। বিসমিল্লাহ চা-কারখানার মালিক আলমগীর আলম মিয়া ও নর্থবেঙ্গল চা-কারখানার ব্যবস্থাপক শাহিনুর ইসলাম বলেন, নিলাম বাজারে চায়ের মূল্য কমে গেছে। অতিরিক্ত মূল্য চাপিয়ে দেওয়া হলে কারখানা মালিকরা লোকসানে পড়বে।

কাঁচা চা-পাতার মূল্য নির্ধারণী সভায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বাংলাদেশ চা বোর্ডের আঞ্চলিক শাখার ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামিম আল মামুনকে কাঁচা চা-পাতা উত্তোলনে চাষিদের খরচের বিষয়টি অবহিত করতে বলেন। ড. শামিম আল মামুন প্রতি কেজি কাঁচা চা-পাতা উত্তোলনে চাষিদের ১৬ টাকা ৭১ পয়সা খরচ হচ্ছে বলে মতামত দেন। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক প্রতি কেজি কাঁচা চা-পাতার মূল্য ১৮ টাকা নির্ধারণ করেন। সভা শেষে জেলা প্রশাসক দুই পক্ষকে সভার সিদ্ধান্ত মানতে নির্দেশ দেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেন।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পঞ্চগড়ে মাদকসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

আড়াই বছরেও চালু হয়নি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর

যেভাবে অভাবনীয় সাফল্য এলো রামগড় চা বাগানে

বিশেষ সংবাদ

নতুন দামে চা পাতা কিনছেন না মালিকরা, হতাশায় কৃষক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বাদাম চাষে ঝুঁকছেন চাষি

দেবীগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে কাউন চাষ

সার সংকটে তেঁতুলিয়ার ক্ষুদ্র চা-চাষিরা, বরাদ্দ কমের অভিযোগ

ঈদের ছুটিতে ৮ দিন বন্ধ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর