সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পুতিনের লক্ষ্যপূরণ কত দূর?

আপডেট : ২১ মে ২০২২, ১৬:৪৬

ইউক্রেনে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর থেকে শনিবার (২১ মে) পর্যন্ত টানা ৮৭ দিনের মতো চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাত। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে উদ্দেশ্যে পুতিন ইউক্রেনে অভিযান শুরু করেছেন, তা এখন পর্যন্ত আদৌ কি অর্জিত হয়েছে? 

ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর দেশটির রাজধানী কিয়েভের অভিমুখে রুশ বাহিনী যাত্রা শুরু করে। লক্ষ্য ছিল, কিয়েভ দখল করে নেওয়া। ৪০ কিলোমিটারের বিশাল বহর নিয়ে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ নিতে পুতিনের সেনারা যুদ্ধ শুরু করেন। কিন্তু ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে একসময় পিছু হটতে বাধ্য হয়।

কিয়েভকে ঘিরে রাশিয়ার বাহিনী যে আক্রমণ শুরু করেছিল, তা থেকে সরে পূর্ব ইউক্রেনে মনোনিবেশ ঘটায়। কিয়েভ দখল নিতে ব্যর্থ হয়ে রাশিয়া জানায়, তাদের লক্ষ্য এখন পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল ও দক্ষিণ ইউক্রেন পুরো নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।  

পশ্চিমাদের গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, পূর্ব ইউক্রেনেও পুতিনের বাহিনীর অভিযান অনেকটা থমকে গেছে। যে পরিকল্পনা মতো অভিযান অগ্রসর হওয়ার কথা তা এগোয়নি। 

গতকাল শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি উপদেষ্টা দেরেক চোলেট বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জেমস ল্যান্ডেলকে বলেন, 'রাশিয়া যখন ইউক্রেন আক্রমণ শুরু করেছিল তখনকার চেয়ে এখন দুর্বল।'  

দেরেক চোলেট আরও বলেন, রাশিয়ার ইতোমধ্যে কৌশলগত পরাজয় হয়েছে। এছাড়া তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি 'বিধ্বস্ত' হয়েছে এবং রাশিয়ার সেনাও কমে গেছে।

এছাড়া পুতিন চেয়েছিল ইউক্রেনে অভিযানের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে উৎখাত করে রুশপন্থী কোনো নেতার হাতে ইউক্রেনের দায়িত্ব দেওয়া। সেটা আপাতত অধরাই মনে হচ্ছে। অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়, ইউক্রেনের সেনারা যেন আত্মসমর্পণ করে, তবে পুতিনের সেই ডাকে কেউ সাড়া দেয়নি। 

ইউক্রেনে যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা হারিয়েছে বলে নিজে স্বীকার করেছে রাশিয়া। যদিও দেশটি পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করেনি। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সর্বশেষ দাবি করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৮ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে।

গতকালের রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্য ইউক্রেনে অভিযান শুরু করেছে রাশিয়া, তা অর্জিত হয়নি। এরইমধ্যে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি।  

শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টে বলা হয়েছে, ৪০ বছরের বেশি রাশিয়ানদের এবং ৩০ বছরের ওপরে বিদেশিদের দেশটির সামরিক বাহিনীতে যোগদানে নতুন বিল পাস করার কথা ভাবছে।

তবে ইউক্রেনের মারিউপোল অঞ্চল দখল নিয়ে বিজয় ঘোষণা করেছে রাশিয়া। তবে এটি পুতিনের টানা ৮৭ দিনের যুদ্ধের তেমন বড় সাফল্য নয় বলেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে। দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালিয়ে নিতে রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়বে। পশ্চিমা দেশগুলো জানিয়েছে, এই যুদ্ধ বছরজুড়ে চলতে পারে। 

এছাড়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমাদের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে রাশিয়া। পশ্চিমা দেশগুলো ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। পুরোপুরি তা বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলেও জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। 

তাই বলা যেতে পুতিন পশ্চিমা বিশ্ব থেকে প্রায় একা হয়ে পড়েছেন। এই যুদ্ধ কতদিন ধরে চলবে তাও বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে রাশিয়াকে তারা ধরাশয়ী করে দিয়ে যায়। যেন পরবর্তীতে পুতিনের রাশিয়া যেন মাথা উঁচু করে দাড়াতে না পারে। 

তাই যে উদ্দেশ্যে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করলেন পুতিন, তা শুধু অধরাই নয়, উল্টো বিপদেই পড়ছে না কি, তা-ই এখন দেখার বিষয়।  তথ্যসূত্র : বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স। 

ইত্তেফাক/এসআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ইউক্রেনে মাইন অপসারণ করবে রোবট

ইউক্রেনের অস্ত্র কারখানায় রাশিয়ার হামলা 

‘গুরুতর অসুস্থ পুতিন, ২ বছরের মধ্যে মারা যাবেন’

যে চ্যালেঞ্জের মুখে পশ্চিমা নেতারা 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বেলারুশে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাবে রাশিয়া

ইউক্রেনে ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: জেলেনস্কি  

ইউক্রেনের ৩ অঞ্চলে সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রাশিয়ার হামলা 

কিয়েভে ভোরে চারটি বিষ্ফোরণ