রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কার্ড জালিয়াতি ও ব্যাংক গ্রাহকদের উদ্বেগ

আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ০৯:৪৮

ডেবিট, ক্রেডিট বা ভিসা কার্ড পকেটে। অথচ জালিয়াতি করিয়া টাকা তুলিয়া লইতেছে অন্য কেহ। কার্ডের বিলে না-কেনা জিনিসের তালিকা দেখিয়া অনেকের চক্ষু চড়কগাছ হয়। ইহা কী করিয়া সম্ভব? কিন্তু যেইখানে জালিয়াতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরি হইয়া যায়, সেইখানে ইহাকে অসম্ভব বলি কী করিয়া? প্রযুক্তির কল্যাণে নিঃসন্দেহে আমাদের আর্থিক লেনদেন এখন অনেক সহজ হইয়া গিয়াছে। সমগ্র বিশ্ব আজ ক্যাশলেস সোসাইটিতে পরিণত হইতে যাইতেছে। করোনা মহামারির কারণেও বাড়িয়া গিয়াছে অনলাইন কিনাকেটা। তবে ইহার সহিত সমগ্র বিশ্বেই বাড়িয়াছে কার্ড জালিয়াতির ঘটনা। অবশ্য উন্নত দেশসমূহে যেই পরিমাণ ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ঘটে, তাহা তাহাদের অর্থনীতির বিশাল আকারের তুলনায় খুবই নগণ্য। তাহারা ইহা লইয়া তেমন চিন্তিত নহেন। সেইখানে ইহার প্রতিকারের ব্যবস্থা যেমন আছে, তেমনি নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতাও কাজ করিয়া থাকে; কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের ঘটনা ঘটিলেই ব্যাংক গ্রাহকদের মধ্যে দ্রুত উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ছড়াইয়া পড়ে। ইহাতে ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই জন্য এই ধরনের ঘটনা ঘটিবার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কতৃ‌র্পক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

ক্রেডিট, ডেবিট, ভিসা ইত্যাদি কার্ড জালিয়াতির সহিত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্র জড়িত। সরিষার মধ্যে ভূত থাকিবার কথাও আমরা জানি। সেই ভূত তাড়াইবার ব্যবস্থা করিতে হইবে সর্বাগ্রে। রবিবার (২২ মে) ইত্তেফাকের একটি খবরে বলা হইয়াছে যে, একশ্রেণির ব্যাংক কর্মকর্তাই তথ্য দিতেছে প্রতারক চক্রকে। ইহা ভয়াবহ কথা! ইহা বন্ধ করিতে হইলে প্রতিটি ব্যাংকে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করা উচিত। এইরূপ কার্ড জালিয়াতি নানাভাবেই সংঘটিত হয়। যেমন—কাস্টমার কেয়ার নম্বর ক্লোন করিয়া গ্রাহকের নিকট হইতে ফোন করিয়া পিনকোড নম্বর হাতাইয়া লওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকাউন্ট হইতে হাজার হাজার টাকা উধাও হইয়া যায়। প্রশ্ন হইল, পিনকোড নম্বরটি অত্যন্ত গোপনীয় একটি বিষয়। ইহা অন্যকে জানানোটাই বোকামি। ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহকের গোপন বিষয়াদি সংরক্ষণ করিতে বাধ্য। ইহার ব্যত্যয় হইলে সেই ব্যাংকের ভাবমূর্তি তলানিতে চলিয়া যাইবে। ওটিপি নম্বরও কাহাকে দেওয়া অনুচিত। এই কার্ড জালিয়াতি ঠেকাইতে এটিএম মেশিন বন্ধ রাখিবার নজির রহিয়াছে; কিন্তু ইহা কোনো সমাধান নহে। আইটি দিয়াই আইটি সমস্যার সমাধান করিতে হইবে। অনেক সময় আমরা এটিএমে যেইখানে কার্ড ঢুকাই, সেইখানে ডুপ্লিকেট কার্ড রিডার, পিন প্যাড বা ছোট্ট ক্যামেরা লাগাইয়া রাখিতে পারে প্রতারকরা। পিওএস মেশিনে কার্ড ঘষিয়া (সোয়াইপ করিয়া) জিনিসপত্র কিনাকাটার সময়ও তথ্য হাতানোর চেষ্টা চলিতে পারে। চেইন সুপারশপের বিক্রয়কর্মী হাতঘড়ির একপ্রকার ডিভাইসের মাধ্যমে গ্রাহকদের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের পিন নম্বর চুরি করিয়া ফেলিতে পারে। অনেক সময় নকল ওয়েবসাইট তৈরি করিয়া কিংবা ই-মেইল বা মেসেজ পাঠাইয়াও কেহ গ্রাহকের ব্যাংকের তথ্য চুরি করিতে পারে।

প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে গত এক-দেড় দশকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমে গুণগত পরিবর্তন আসিয়াছে। অনলাইন ব্যাংকিং, এটিএম কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি সেবার পরিসর বৃদ্ধি পাইয়াছে। ইহার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা আজ গ্রাহকের দোরগোড়ায় শুধু নহে, একেবারে ঘরে পৌঁছিয়া গিয়াছে। ঘরে বসিয়াই অনেকে আজ ব্যাংকিং লেনদেন করিতেছেন। তবে এই লেনদেনের নিরাপত্তা অবশ্যই নিশ্চিত করিতে হইবে। এই জন্য সকল প্রকার জালিয়াতি ও প্রতারণা বন্ধ করিতে হইবে। গ্রাহকদের বিড়ম্বনা রোধে ব্যাংকগুলিকে আরো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা লইতে হইবে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলির বড় দুর্বলতা হইল দক্ষ আইটি কর্মীর অভাব। অনলাইন প্ল্যাটফরমে লেনদেনে হ্যাকিং প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং থাকা প্রয়োজন। উপর্যুক্ত পরিস্থিতিতে একটা কথাই দামি, তাহা হইল—সাবধানের মার নাই। এটিএম মেশিন পরখ করিয়া ও ভিড় এড়াইয়া লেনদেন করা বাঞ্ছনীয়। নিয়মিত ব্যাংক স্টেটমেন্টে নজর রাখা ও মাঝেমধ্যে পিন নম্বর পরিবর্তন করাও দরকার। ইহা ছাড়া যে কোনো অ্যাপ ব্যবহারের পূর্বে যাচাই-বাছাই এবং কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও স্মার্ট ফোনকে নিয়মিত অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টিম্যালওয়্যার দিয়া ক্লিন করাও প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

‘মতৈক্য’ ছাড়া মুক্তি বহুদূর

‘বুঝিবে সে কীসে, দংশেনি যারে’

কোনো কিছুই ভালো যাইতেছে না!

এই প্রবণতা বন্ধ করা উচিত

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আত্মতৃপ্তি লাভ মানে যবনিকা পতন

দুখু মিয়াদের দুঃখ করিবার কারণ নাই!

প্রকৃতির প্রতি সুবিবেচনার সময় আসিয়াছে

স্বপ্ন আজ সত্য হইয়া ধরায় নামিল