শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গোখাদ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে বন্ধ হচ্ছে খামার

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ০৭:৪৯

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গোখাদ্যের দাম বেড়েছে বেশ কয়েক বার। এতে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বেশি দাম দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ কিনতে না পেরে গবাদি পশুকে খাবার কমিয়ে দিয়েছেন তারা। অনেকে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। ছয় মাস আগে যে গমের ভুসি ৮০০ টাকা মণ পাওয়া যেত, সেই ভুসি এখন ১ হাজার ৭০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

খামারের দায়িত্বে নিয়োজিত চকচকা গ্রামের বিষু সরকার বলেন, ‘এখন আর গরু পালার কোনো সুযোগ নেই। ছয় মাস আগে যে গমের ভুসি কিনেছি ৮০০ টাকায়, এখন তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। আগে যে ভুট্টার গুঁড়া কিনেছি ১ হাজার ২০০ টাকায়, এখন তা নিতে হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকায়। ৪০ কেজির মুগের ভুসি আগে ১ হাজার ৩০০ টাকায় কিনলেও এখন কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। আর সয়াবিনের দাম এত বেশি যে, আমরা এখন গরুকে তা খাওয়াচ্ছি না।’ ফুলবাড়ীতে উন্নত জাতের ঘাস চাষের বিষয়টি এখনো খুব একটা বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে না পড়লেও বাজারে এর দামও চড়া। যে কারণে এ অঞ্চলের খামারিরা খড় ও দানাদার খাবার খাইয়েই গবাদি পশু পালন করেন। তবে দানাদার খাবারের বাজার টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকায় অনেকেই খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার গরু বিক্রি করে খামার ছোট করছেন।

ফুলবাড়ী পৌর শহরের চকচকা গ্রামের ধরম চাঁদ গুপ্ত জানান, তার পারিবারিক খামারে ছোটবড় আটটি দুধের গাভি ছিল। গোখাদ্যের দামের কারণে ইতিমধ্যে চারটি গাভি বিক্রি করে দিয়েছেন। অন্যগুলোও পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলায় ছোটবড় অন্তত ২ হাজার ৩২৫টি গরুর খামার রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নিবন্ধিত। ফুলবাড়ী উপজেলা ডেইরি খামার মালিক সমিতির সভাপতি মো. জাকারিয়া বলেন, হঠাৎ করে গোখাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে খামারিদের পথে বসতে হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে খামারিদের টিকিয়ে রাখা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এজন্য খামারিদের উন্নত জাতের ঘাস চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সরকার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিদের ঘাস চাষে সহযোগিতাও করব। পাশাপাশি যেসব খামারি আগামী কোরবানি উপলক্ষে গরু মোটাতাজা করছেন, তাদের জন্য ইউরিয়ার মোলাসেস তৈরির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা 

বিশেষ সংবাদ

চট্টগ্রামে পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গতি নেই

বিশেষ সংবাদ

নৌকা বা হেলিকপ্টার দেখলেই ত্রাণের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বানভাসিরা

বিশেষ সংবাদ

ঘরে ফিরতেও শত বাধা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

বিপন্নপ্রায় তিতপুঁটি ও নারিকেলি চেলার প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন

বিশেষ সংবাদ

কক্সবাজারে পাহাড়ধস আতঙ্কেও সরছে না বাসিন্দারা

বন্যায় তলিয়ে গেছে গো-চারণ ভূমি, বিপাকে খামারিরা

বিশেষ সংবাদ

সাতক্ষীরা থেকে প্রতিদিন ২১ টন আম যাচ্ছে সারাদেশে