রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পার্কগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন

আপডেট : ২৫ মে ২০২২, ০৯:২৩

মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করিতে দুর্গম-বন্ধুর পর্বতমালার অশ্মময় পরিবেশকে অনিন্দ্য সৌন্দর্যমণ্ডিত করিবার প্রয়াস চলিতেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এই নিমিত্তে পর্বতশ্রেণির কোল জুড়িয়া নির্মাণ করা হইতেছে সবুজ-শ্যামল ‘পার্ক’। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি না থাকিবার পরও সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হইতেছে। ৪ হাজার মাইল দূরে বীর আলেকজান্ডারের দেশ মেসিডোনিয়ায় যখন এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তোড়জোড় চলিতেছে তখন এই ছোট্ট বদ্বীপে ঘটিতেছে সবুজবেষ্টিত পার্ক উজাড়ের মহাযজ্ঞ। দেশের অনেক পার্ক ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হইয়াছে। রাজধানীর পার্কগুলির বেহাল দশা লইয়া বহু লেখালেখি হইয়াছে। কিন্তু পার্কগুলিকে দখল-দূষণের হাত হইতে রক্ষার আবেদন যেন অরণ্যে রোদনে পরিগণিত হইয়াছে। এই মেগাসিটির পার্কগুলির দুরবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃ‌র্পক্ষের ভাবিবার ফুরসত্ আছে বলিয়া মনে হয় না। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে একদা শোভাবর্ধনকারী পান্থকুঞ্জ পার্কটির অবস্থা বর্তমানে সঙ্গিন। ময়লার স্তূপে পরিণত হইবার কারণে সেখানে দর্শকের দেখা মেলে না। গতকাল ইত্তেফাকের এক খবরে বলা হইয়াছে, এই পার্কটিতে এখন অসামাজিক কর্মকাণ্ডও চলিতেছে। জনগণের সুস্থ বিনোদনের জন্য যে পার্ক গড়িয়া উঠিয়াছিল একদা, সেই পার্ক এখন হইয়া পড়িয়াছে নর্দমাপূর্ণ এবং সেই সূত্রে মশার অন্যতম প্রজননক্ষেত্র। প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি আমাদের এই অবহেলা প্রদর্শন মোটেও কাম্য নহে।

ত্রিভুজাকৃতির পান্থকুঞ্জ পার্কটিকে ২০১৮ সালে ‘জলসবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের ব্যানারে আধুনিকায়নের উদ্যোগ লওয়া হইলেও বারংবার দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে পার্কটি এখন জরাজীর্ণ হইয়া পড়িয়াছে। শুধু এই পার্কটিই নহে, পুরা কারওয়ানবাজার এলাকাটিই যেন অব্যবস্থাপনার চরম খেসারত দিতেছে। মতিঝিলের মতো এখানে কমার্শিয়াল এলাকা গড়িয়া তুলিবার উদ্যোগ নেওয়া হইয়াছিল। কিন্তু তাহা আজও সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয় নাই। অন্য একজনের উদ্যোগের কারণেই কি এই অবহেলা ও অনাদর? এখানকার কাঁচাবাজারটি অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হইলেও ব্যবসায়ীরা যাইতে চাহেন না। এখানকার পরিবেশও ক্রমশ দূষিত হইয়া পড়িতেছে। বিভিন্ন দোকানপাটের কারণে ফুটপাত দিয়া চলাচল করা কঠিন। বিশেষত সকালবেলা ও রাত্রে প্রচণ্ড ভিড় ঠেলিয়া পথচলা অতি কষ্টের। এই বিষয়টি কাহারও ভাবিয়া দেখিবার সময় আছে কি? এই এলাকাটিকে নিয়মতান্ত্রিক বাণিজ্যিক এলাকা হিসাবে গড়িয়া তুলিবার বিষয়টি কি কেবল খাতা-কলমেই থাকিয়া যাইবে? অবশ্য ইহা অত্যন্ত ক্ষমতাবান সংসদ সদস্যের এলাকাও বটে!

কংক্রিটের শহর-নগরে পার্ক ও সবুজ বেষ্টনীযুক্ত উন্মুক্ত জায়গাগুলি মেগাসিটির ফুসফুস হিসাবেও বিবেচিত হইয়া আসিতেছে। কর্মব্যস্ত মানুষ খোলা আকাশের নিচে দুদণ্ড বুকভরে নিঃশ্বাস লইবার জন্য ছুটে আসে এই সকল স্থানে। আজকাল পার্ক ও খেলার মাঠের অভাবে শহরের শিশুরা স্থূলতাসহ শারীরিক-মানসিক বিভিন্ন রোগে ভুগিতেছে। তাহাদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হইতেছে নানাভাবে। এভাবে প্রকৃতি উজাড়ের মহোত্সবে আমাদের গা এলাইয়া দেওয়া অপ্রত্যাশিত ও অনুচিত। বর্তমানে ঢাকা শহরে পার্কের সংখ্যা ৪৯টি। তন্মধ্যে ৩৩টির অস্তিত্ব এখন আর খঁুজিয়া পাওয়া যায় না। এইভাবে শহরের সকল পার্ক কি একদিন ধ্বংস হইয়া যাইবে? রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ যেই সকল এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলিতেছে, সেইখানকার আশপাশের পার্কগুলি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দিতে হইবে। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের পার্কগুলি রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে আমাদের নূতন করিয়া মনোনিবেশ করিতে হইবে। স্থানীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই ব্যাপারে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হইবে। পার্কগুলি দখল-দূষণের হাত হইতে রক্ষায় সাধারণ মানুষকেও হইতে হইবে সজাগ ও সচেতন।

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

‘মতৈক্য’ ছাড়া মুক্তি বহুদূর

‘বুঝিবে সে কীসে, দংশেনি যারে’

কোনো কিছুই ভালো যাইতেছে না!

এই প্রবণতা বন্ধ করা উচিত

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আত্মতৃপ্তি লাভ মানে যবনিকা পতন

দুখু মিয়াদের দুঃখ করিবার কারণ নাই!

প্রকৃতির প্রতি সুবিবেচনার সময় আসিয়াছে

স্বপ্ন আজ সত্য হইয়া ধরায় নামিল