শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মুরাদনগরে বিলুপ্তের পথে নজরুল-নার্গিসের স্মৃতিচিহ্ন

আপডেট : ২৫ মে ২০২২, ১৪:০৪

মানবতা, সাম্য, দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টিতে এক অনন্য অধ্যায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কবর্তীথি দৌলতপুর। এখানেই নার্গিসের ভালবাসায় বেজেছিল নজরুলের ‘অগ্নিবীণা’। ১৯২১ সালে বন্ধু আলী আকবর খানের সঙ্গে দৌলতপুরে তার গ্রামের বাড়িতে আসেন কবি। এখানকার সবুজ-শ্যামল পরিবেশ কবিকে দারুণভাবে আচ্ছন্ন করে। এখানে কবি রচনা করেছেন বহু কবিতা ও গান। কিন্তু সেই দৌলতপুর আজও অবহেলিত ও উপেক্ষিত। এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে কবির নামে হয়নি কোনো প্রতিষ্ঠান।  

মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ-নবীনগর সড়ক ধরে সামনে এগোলেই দৌলতপুর গ্রাম। এ গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে ‘নজরুল তোরণ’। তোরণের দুই পাশে ইট-সিমেন্টের তৈরি কালো রঙের টুকরো টুকরো বোর্ডে সাদা কালিতে লেখা কবির পঙক্তিমালা। ওই পথ ধরে আধা কিলোমিটার এগোলেই খানবাড়ি। যে বাড়িকে কেন্দ্র করে নজরুলময় হয়ে ওঠেন ভক্তরা। ওই বাড়ি আর গ্রাম দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত নজরুল-নার্গিসের গ্রাম হিসেবে। এখানে রয়েছে আলী আকবর খানের সুনিপুণ কারুকাজে শোভিত দ্বিতল বাড়ি। এ বাড়িতেই কবি ছিলেন। এ বাড়ির পলেস্তারা খসে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না কোন সংস্কার। এ ভবনের পেছনে বাঁশঝাড় পার হলেই কবির বাসরঘর।

muradnagar

জানা যায়, ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কবির বাসরঘরটি আটচালা ছিল। পরে চৌচালা হলেও আয়তন ও ভিটির কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ওই ঘরেই ছিল নার্গিসের ব্যবহার করা কাঠের সিন্দুকটি। অযত্ন ও অবহেলার কারণে সে সিন্দুকটি এখন আর নেই। একসময় ওই ঘরে বাসরখাটটিও ছিল। এখন সেটি পাশের একটি আধা পাকা ঘরে রাখা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ওই মঞ্চে বছরের অধিকাংশ সময় গরু চরে। শিশুরা হামাগুড়ি দেয়। মুরাদনগর উপজেলা আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমিটির সভাপতি সৈয়দ রাজিব আহাম্মদ আক্ষেপ করে বলেন, ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবির নামে অনেক কিছু হয়েছে। অথচ দৌলতপুরে কিছুই হলো না। 

কবিপত্নী নার্গিস বংশের উত্তরসূরি মোনালিসা খান বলেন, এ বাড়ির পুকুরঘাটের আম গাছ তলায় কবি দুপুরে শীতলপাটিতে বসে গান ও কবিতা লিখতেন। খানবাড়ির ছেলেমেয়েদের নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্র শেখাতেন। পুকুরের পানিতে সাঁতার কাটতেন। শখ করে পুকুরে জাল আর পলো দিয়ে মাছ শিকার করতেন। কবির ওই স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার জন্য দৌলতপুরে বানানো হয়েছে নজরুল মঞ্চ। প্রতিবছর কবির জন্মদিনে সেখানে জেলা প্রশাসন ও মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন অনুষ্ঠান করে থাকে। এর বাইরে আর কিছুই এখানে হয়নি। 

১৯৬২ সাল পর্যন্ত কবির বাসরঘরটি আটচালা ছিল

কবিপত্নী নার্গিসের ভাইপো বাবলু আলী খান বলেন, প্রতিবছর এখানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তবে কবি নজরুলের নামে পাঠাগার ও দর্শনার্থীদের জন্য অতিথি ভবন এখন সময়ের দাবি। তাছাড়া স্থানীয়দের দাবি কোম্পানিগঞ্জ থেকে নবীনগর উপজেলা পর্যন্ত সড়কটি কবির নামে করা হোক। 

রাজনৈতিক ও মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ তানভীর আহম্মেদ ফয়সাল বলেন, কবি নজরুলের নামে দৌলতপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিসহ আলী আকবর খানের সুনিপুণ কারুকাজে শোভিত দ্বিতল বাড়িটিকে জাদুঘর বানিয়ে কবি পত্মী নার্গিসের ব্যবহার করা কাঠের সিন্দুক ও বাসরখাটটি সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি। 

তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর এখানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বড় ধরনের কোনো স্থাপনা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, কোম্পানিগঞ্জ থেকে নবীনগর উপজেলা পর্যন্ত সড়কটি কবির নামে করতে চাই। 

আলী আকবর খানের সুনিপুণ কারুকাজে শোভিত দ্বিতল বাড়ি। এ বাড়িতেই কবি ছিলেন

মুরাদনগর নজরুল নার্গিস শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক নুরুল ইসলাম মাস্টার বলেন, ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবির নামে অনেক কিছু হয়েছে। অথচ দৌলতপুরে কিছুই হলো না। কবি এখানে দুই মাস ১১দিন ছিলেন। এখানে তিনি যৌবনে প্রেম ও বিয়ে করেছেন। অনেক কবিতা ও গান রচনা করেছেন। দৌলতপুরে কবির নামে বড় ধরনের কোনো স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করা হোক। 

নজরুল গবেষক অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ বলেন, কবি নজরুলের নামে দৌলতপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি জানাচ্ছি। 

 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যা, দুইজনের যাবজ্জীবন

এবার কুমিল্লায় জমজ নবজাতকের নাম রাখা হলো পদ্মা-সেতু

বিশেষ সংবাদ

বিএনপির কারণে হারলেন সাক্কু!

তিতাসে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা আরোহীর মৃত্যু  

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পুলিশের গাড়ি থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলো কর্মীরা 

দেবিদ্বারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

কুসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর হলেন যারা

কুসিকের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণা রিফাতের