বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মঠবাড়িয়ায় অস্তিত্ব সংকটে চার খাল

আপডেট : ২৬ মে ২০২২, ০২:৩০

মঠবাড়িয়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে প্রবহমান চারটি খালের মোহনা থেকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রভাবশালীদের দখলের কবলে। এতে সংকুচিত হয়ে খালগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

খালের উভয় পাশ দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িসহ নানা পাকা স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে খালের দুই তীর সংশ্লিষ্ট জনবসতির ময়লা, শহরের বর্জ্যসহ অসংখ্য বাসাবাড়ির শৌচাগারের পাইপ সংযোগ থাকায় খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত যাচ্ছে। খালের নাব্য এখন এসব খাল। সম্প্রতি শহরে কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা খাল থেকে পানি সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে বিপাকে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মঠবাড়িয়া প্রথম শ্রেণির পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে দক্ষিণ বন্দর এলাকায় তিনটি শাখা খালের মোহনাস্থল। এ মোহনা স্থল থেকে মঠবাড়িয়া-আন্ধার মানিক খালের এক কিলোমিটার, মঠবাড়িয়া-বহেরাতলা খালের এক কিলোমিটার, মঠবাড়িয়া-মাছুয়া খালের দেড় কিলোমিটার ও মঠবাড়িয়া-গুলিসাখালী খালের এক কিলোমিটার এলাকার দুই তীর জুড়ে দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে একশ্রেণির প্রভাবশালীরা। শহরের দক্ষিণ বন্দর স্লুইসগেট ও ব্রীজসংলগ্ন তিন খালের মোহনার চার পাশ জুড়ে দখলদাররা নির্বিঘ্নে পাকা স্থাপনা গড়ে তুলে সংকুচিত করে ফেলেছে। মোহনার প্রধান খালে কয়েক বছর আগে পাউবো একটি সংকুচিত স্লুইসগেট নির্মাণের সুযোগে প্রভাবশালীরা এর চারপাশ দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এ ছাড়া ঐ একই খালের থানাপাড়া এলাকার টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ১৫ বছর আগে একটি বাঁধ দিলে মঠবাড়িয়া-গুলিসাখালী খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। শহরের মুচিপাড়া এলাকার মিরুখালী প্রবহমান খালের মাঝখানে অপরিকল্পিত কালভার্ট ও দক্ষিণ বন্দরে সংকুচিত স্লুইসগেট নির্মাণের সুযোগে শহরের প্রভাবশালীরা চারটি খালের দুই তীর দখলে নিয়ে পাকা স্থাপনা গড়ে তুলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারিভাবে খালের দুই তীরে সীমানা পিলার না থাকার সুযোগকে পুঁজি করে খাল খেকোরা দখলের প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগি পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আল মামুন আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। প্রশাসনের নজরদারি এবং অভিযান না থাকায় এই খাল চারটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। শহরের সাত ও ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন খালটি ময়লা ও বর্জ্য অপসারণ এবং দখলমুক্ত না হলে এবারের বর্ষা মৌসুমে জলবদ্ধতায় জনসাধারণ চরম ভোগান্তিতেপড়বে।

পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী রেবেকা খান বলেন, জেলা পরিষদের আওতাভুক্ত সব খালে অভিযোগের ভিত্তিতে অবৈধ স্থাপনার তালিকা করে উচ্ছেদের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। পৌরসভার প্রশাসক ও মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উর্মী ভৌমিক বলেন, পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রের চার প্রবহমান খালের অবৈধ স্থাপনা অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা করে উচ্ছেদের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শহরের মধ্যে খালগুলো দূষণমুক্ত করতে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ভাণ্ডারিয়ার ইউএনও’র শুদ্ধাচার পুরস্কার লাভ

উপবৃত্তির টাকা তুলতে পিন নম্বর জটিলতায় পিরোজপুরের শিক্ষার্থীরা

ইন্দুরকানী আশ্রয়ণ প্রকল্প : বদলে গেছে পাঁচ শতাধিক প্রান্তিক মানুষের জীবন

স্বরূপকাঠি উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রহর গুনছেন নাজিরপুরের কৃষকরা

‘সিরিয়াল ধর্ষক’ শামীম ঢাকায় গ্রেফতার

নাজিরপুরে জমে উঠেছে চাইয়ের হাট

কাউখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত