দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে ৭০ বছর আগে নির্মিত আদমজী জুট মিলের জানাল কপাট-বিহীন বড় জামে মসজিদটি। ২০০২ সালে এশিয়ার বৃহত্তম জুট মিল আদমজী জুট মিলস বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় এখানকার ১২টি ছোট-বড় মসজিদ। আদমজী জুট মিলসটি ইপিজেডে রূপান্তরিত হওয়ার পর ভেঙে ফেলা হয় সব মসজিদ মাদ্রাসা ও স্কুল। শুধু কালের সাক্ষী হয়ে আছে বিহারি ক্যাম্পের পশ্চিম পার্শ্বে সোনামিয়া মার্কেট সংলগ্ন আদমজী জামে মসজিদটি। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি আদমজীর একমাত্র স্মৃতি বহন করে টিকে রয়েছে।
জানালা ও কপাট না থাকায় অন্যান্য মসজিদ থেকে ব্যতিক্রম এই মসজিদে ছুটির দিনগুলোতে ও ঈদ, শবেবরাত, শবেকদরে দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই নামাজ পড়তে আসেন। মসজিদটিতে সহস্রাধিক মুসল্লি একত্রে নামাজ পড়তে পারেন। আদমজী জুট মিলস ২৪ ঘণ্টায় তিন শিফটে চালু থাকত। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও শ্রমিকরা যে কোনো সময় আল্লাহর ঘরে সিজদাহ করতে চাইলে যাতে মসজিদে আসতে পারেন, সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই আদমজী জুট মিল কর্তৃপক্ষ মসজিদটি তৈরি করে।
আদমজী বন্ধের পর স্হানীয়দের ব্যবস্হাপনায় চালু আছে মসজিদটি। ২০০২ সাল থেকে মসজিদটির ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন হাফেজ মাওলানা মো. সোলাইমান। তিনি জানান, অনেক মসজিদের পাশে দোকান থাকে। সেখান থেকে নির্দিষ্ট একটা অর্থ আসে। তবে আদমজী জামে মসজিদের নির্দিষ্ট কোনো আয় নেই। মসজিদের কয়েকটা ফল গাছ আছে ও মসজিদের পুকুরে মাছ আছে। এগুলো বিক্রি করে কিছু অর্থ আসে। মুসল্লিদের দান দিয়েই মসজিদের খরচ বহন করা হয়।
জানা যায়, ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য প্রস্হের তিন পাশের বারান্দাসহ মসজিদের ছাদটি মোট ৭০টি পিলারের ওপর নির্মিত। পশ্চিম দিক ছাড়া বাকি তিন দিকেই রয়েছে বারান্দা। বারান্দার তিন দিকের ১৮টির মধ্যে যে কোন প্রবেশ পথে ঢুকে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদটির উপরিভাগে রয়েছে ছোট ছোট আটটি গম্বুজবেষ্টিত একটি বড় গম্বুজ। পূর্ব-দক্ষিণ কোণে অবস্হিত সুউচ্চ একটি মিনার, যেখানে ঐ সময়ে বিদু্যত্ ব্যবস্হা না থাকায় খালি গলায় মুয়াজ্জিন আজান দিতেন। প্রায় দুই একর জায়গা জুড়ে আদমজী জামে মসজিদে আছে দৃষ্টিনন্দন একটি গম্বুজ। রয়েছে সুন্দর একটি মিনার।
