সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কাজে মনোযোগী না হইয়া উপদেশ দেওয়া অনুচিত

আপডেট : ২৭ মে ২০২২, ০৫:২৯

করোনাকালে শিক্ষার্থীদের দেওয়া উপবৃত্তির অর্ধকোটি টাকা হাতাইয়া নিয়াছে একটি চক্র। প্রতারণায় জড়িত এই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করিয়াছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাহারা বিভিন্ন শিক্ষার্থীর মোবাইলে নম্বরে মেসেজ দিয়া এই প্রতারণা করিয়া আসিতেছিল। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আমাদের দেশে নূতন নহে, বরং ইহা অহরহ ঘটিয়াই চলিয়াছে। অর্ধকোটি তথা ৫০ লক্ষ টাকার প্রতারণার বিষয়টিকে সামান্যই বলিতে হয়। কেননা যেই দেশে শত শত এমনকি হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হইয়া যাইতেছে, সেই তুলনায় ইহা তেমন কিছুই নহে। আমাদের রাষ্ট্রে যে বাড়তি অর্থ খরচ করা হয়, তাহার পরিমাণ আসলে কত? বলা হইয়া থাকে, এই উপরি খরচটা একটি বাজেটের সমান। ইহার কারণে দেশ ও দশের মানুষ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছেন তাহা সহজেই অনুমেয়।

এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, নানাভাবে প্রতারণা ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়-আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকিয়াও আমরা প্রায়শ মুখে বড় বড় কথা বলি। অন্যকে ভালো ভালো কথা শুনাই, নসিহত প্রদান করি। এই দেশের অধিকাংশ অফিস-আদালতে ঘাটে ঘাটে, পদে পদে ও টেবিলে টেবিলে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে ফাইল নড়িবে না, ইহা কে না জানেন। ছোট-বড় যে কোনো প্রজেক্টে দুর্নীতি ও অনিয়মের অন্ত নাই। টাকা না দিলে আজকাল কেহ মুখ চাহিয়াও দেখেন না। অথচ যাহারা বড় বড় পদ-পদবিতে থাকেন, তাহাদের কথায় কথায় উপদেশ দিতে দেখা যায়। ভাবখানা এই যে, তাহারা ধোয়া তুলসীপাতা। অধস্তনদের অন্যায়-অনিয়ম বন্ধে যেন তাহাদের কিছুই করিবার নাই। কিন্তু দেশবাসী তাহাদের ভালোমতোই চিনেন। যেহেতু আমরা ছোট একটি দেশে বসবাস করি, তাই প্রত্যেকের নাড়িনক্ষত্র জানা অসম্ভব নহে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা উঠিতে বসিতে অন্যকে উপদেশ দিতেছি কেন? দুর্নীতির অভিযোগে কাউকে বাদ দিয়া কিছুদিন পর আবার তাহাকে সেইখানে ফিরাইয়া আনিবার নজির রহিয়াছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সচেতন নাগরিকের মনে এই প্রশ্নটা দেখা যায়, আসলে ব্যাপারটা কী? এইভাবে জনগণের সহিত রসিকতা করিবার মানে কী?

জনগণের সহিত একশ্রেণির রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যেন রসিকতা করিতেই পছন্দ করেন। অথচ যাহারা এইভাবে উপদেশ দিয়া চলেন, তাহারা নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখেন না। একদা যেই সকল বিদেশি শাসক আমাদের দেশটা শাসন করিতেন, তাহাদের সম্পর্কে আমরা তেমন একটা জানিতাম না। তাহারা আমাদের উপদেশ দিলে তাহা যে রসিকতা করা হইতেছে তাহা আমরা ধরিতেও পারিতাম না। কিন্তু এখন সেই অবকাশ আর নাই। এখন কোনো কিছুকে আইওয়াশ করাও কঠিন। মানুষ ভোগান্িতর শিকার হইতেছে এবং নানাভাবে প্রতারণার খপ্পরে পড়িতেছে, ইহা স্বীকার করিয়া যথাযথ ব্যবস্হা গ্রহণ করিতে হইবে। শুধু জাতিকে উপদেশ দিলে চলিবে না। জনগণের জন্য কাজ করিলে জনগণ তাহা অবশ্যই স্মরণে রাখিবে, প্রশংসা করিবে। জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়। কোনো প্রচার না করিলেও এমনকি কোনো ফলক না থাকিলেও তাহা কে করিয়াছেন এবং কোন সরকারের আমলে করা হইয়াছে তাহা জনগণ ঠিকই উপলব্ধি করিতে পারেন—মুখে মুখে এই বার্তা ছড়াইয়া দেন সকলখানে। একজন কর্মবীর ও জনসেবকের ইহাই বড় সার্থকতা।

অতএব, কথায় বড় না হইয়া আমাদের সর্বাগ্রে কাজে বড় হইতে হইবে। এই জন্য আমরা বলি, দয়া করিয়া উপদেশ দেওয়া হইতে বিরত থাকুন। বরং নিজ নিজ কাজের প্রতি আরো মনোযোগী হউন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

প্রকৃতির প্রতি সুবিবেচনার সময় আসিয়াছে

স্বপ্ন আজ সত্য হইয়া ধরায় নামিল

স্বপ্ন ভাঙিয়া যায় বাস্তবতার করাঘাতে

নার্স নিয়োগ ও সেবাব্রত

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গণপরিবহনের দুই রকম চিত্র কেন?

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই রক্ষাকবচ

কিছু শিক্ষার মূল্য অনেক অনেক বেশি

নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করিতে হইবে