হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ শিল্প, ভালো নেই কারিগররা

আপডেট : ২৭ মে ২০২২, ১৪:১০

বাঁশের তৈরি পণ্য বাঙালির পুরনো ঐতিহ্য। পুরনো এই ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু পূর্ব পুরুষের এই পেশাকে এখনো ধরে রেখেছেন সাতক্ষীরা তালা উপজেলার হাজারাকাটি, নূরুল্লাহপুর, ফতেপুর, লক্ষণপুর, আটারই গ্রামের কয়েকটি পরিবার। পূর্ব পুরুষদের এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে তারা এখনো তৈরি করছেন ঝুড়ি, ডালা, কুলা, চালুনি, খলুই, হাতপাখাসহ নানা পণ্য। কিন্তু দিন দিন বাঁশ তৈরি বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা। জীবন জীবিকার তাগিদে তবুও বাবা-দাদার এই পেশাকে এখনও ধরে রেখেছে কিছু সংখ্যক পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজারাকাটি গ্রামের সাধন দাস (৭১) বাঁশের পণ্য সামগ্রী  তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয় নানা রকমের বাঁশের তৈরি পণ্য। এ সময় সাধন দাস জানায়, অতীতে গ্রামে-গঞ্জে বাঁশের তৈরি পণ্য সামগ্রীর কদর ছিল অনেক। এসব পণ্য শোভা পেত প্রত্যেক বাড়িতে। এছাড়া গৃহস্থালির নিত্যব্যবহার দ্রব্যাদি, ডালা, চালুন, ডুলি, খরপা, চাটাইসহ অসংখ্য জিনিস আজও তৈরি করে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

নূরুল্লাহপুর গ্রামের সাধন দাস, মিলন দাস, সোনা দাস জানান, হাতে গোনা আমরা কয়েকটি পরিবার আজও এ কাজে নিয়োজিত আছি। একটি বাঁশ থেকে ১০-১২টি ডালি তৈরি হয়। সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি পণ্য থেকে ১০-২০টাকা করে লাভ থাকে। তবে বর্তমানে আগের মত আর বেশি লাভ হয় না। নিজেদেরই বিভিন্ন হাটে গিয়ে ও গ্রামে গ্রামে ফেরি করে এসব পণ্য বিক্রি করতে হয়। অতি কষ্টে তাদের বাপ-দাদার এই পেশাকে টিকে রাখতে ধার দেনা ও বিভিন্ন সমিতি থেকে লোন নিয়ে কাজ করছে। শেকড় আঁকড়ে ধরে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন বলে জানান তারা।

মহান্দী গ্রামের রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক দেবাশীষ দাস জানান, মানুষ বাড়িতে, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করতো। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হতো বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র। বর্তমানে স্বল্প দামে হাতের নাগালে প্লাস্টিক সামগ্রী পাওয়ায় বেত ও বাঁশ শিল্পের চাহিদা আর নেই। প্রযুক্তির ব্যবহার ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন তা হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র।

তালা উপজেলা কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন বলেন, বাঁশ ও বেত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া প্রয়োজন।

তালা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার রহমান বলেন, এটি একটি লাভজনক পেশা। বাঁশ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এই পেশার সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার।

ইত্তেফাক/এমআর