দ্বিতীয় ধাপের প্রাইমারি পরীক্ষা এবং একটি নিষ্ঠুর পর্যবেক্ষণ

আপডেট : ২৮ মে ২০২২, ০৫:২৯

প্রাথমিক শিক্ষা মানবশিক্ষার ভিত্তিস্বরূপ। অথচ আমরা দিনের পর দিন প্রশ্নফাঁস, হল কন্ট্রাক্ট, ভাইভা কন্ট্রাক্ট নামের জালিয়াতি করে শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ—সব দুর্নীতির ব্যাপারেই নিতে হবে ‘জিরো টলারেন্স’। তার বাস্তবায়ন কতটুকু? প্রায় কেন্দ্রেই এমন ঘটনা ঘটেছে যে, অনেক প্রার্থী ওএমআর শিট ভরাট করেনি। এমনকি, বাংলা-ইংরেজিতে ৫টা বাক্যের কিছুই লেখেনি।

এদের একজনের রোল নম্বর টুকে এনেছি। যদি রেজাল্ট আসে। তাহলে শতভাগ নিশ্চিত হব, সরষের মধ্যেও ভূতের লুটোপুটি! পাশের জনকে মোবাইলে কথা বলতে দেখে কর্তব্যরত শিক্ষককে ইঙ্গিতে জানালে তার সাইলোকীয় (শেকসপিয়রের সাইলোক চরিত্র) হাসি দিয়ে জানালন, ‘নিজের পরীক্ষা দাও।’ তারপর মাঝেমধ্যেই লক্ষ করলাম দুজন শিক্ষকের একজন একবার বাইরে যান, আবার আসেন। হাতে থাকে উত্তরপত্র! এটার কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে? 

আবার এটাও দেখছি, প্রার্থীরা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেও উত্তর করছে। পরিদর্শকদের তাতে ভ্রুক্ষেপই নেই। মনে হলো, ‘ইহা এক আজব দেশ’। এখানে সব কোটাধারীর চাকরি হবে কিন্তু সাধারণের চাকরি নেই। এরা শ্রীহীন, শ্রেণিহীন। এসএমএস পার্টির ছড়াছড়ি কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রে। ডিওজির পুত্ররা এলাকাগুলোতে প্রার্থীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি করে। 

গতবারের ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি নেওয়া কন্যার সুযোগ্য ভ্রাতার আজকের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আশাবাদ শুনে আমরা আমজনতা হতাশ নই। শুধু ‘কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’—তত্ত্বে বিশ্বাসীরা আবার জাগবে। তখন ‘কাণ্ডারি হুশিয়ার’ হুলিয়া ছড়িয়ে এদের পশ্চাদ্ভাগের পিরান ছিঁড়ে সাম্প্রতিক শ্রীলঙ্কানিয়ান আপ্যায়ন শুরু হবে। সময় এমন এক শিক্ষা দেওয়া শুরু করবে যখন আর করার কিছুই থাকবে না। 

সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যদি শতভাগ নিয়োগ হতো, তাহলে প্রাথমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে হাই স্কুলে গিয়ে শেখাতে হতো না ‘দ’-এর সঙ্গে ‘ব’-ফলা যুক্তে কী উচ্চারণ? এভাবে একটার পর একটা নিয়োগ পরীক্ষায় যদি জালিয়াতি হয়, তাহলে এ জাতির ভাগ্যে আছে কী? আমার মনে হয়, নেহায়েত স্বর্গীয় সুদৃষ্টি না থাকলে আমরা বহু আগেই পদ্মাসেতুর নিচে চাপা পড়ে যেতাম! 

ইত্তেফাক/এএইচপি