১৬ পেরিয়ে ১৭তম বর্ষে পদার্পণ 'লাল মাটি'র ক্যাম্পাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের  

আপডেট : ২৮ মে ২০২২, ১৪:২৫

প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পেরিয়ে ১৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে 'লাল মাটির' ক্যাম্পাস বলে খ্যাত দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের ২৬তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৬ সালের ২৮মে লাল মাটির পাহাড় আর সমতল ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়টি। শনিবার (২৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।   

প্রকৃতির কোলে মনোরম পরিবেশের এ বিশ্ববিদ্যালয়টি জ্ঞানচর্চার উর্বরভূমি। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে ৭টি বিভাগ, ৩০০ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক ও ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে চালু হওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয়টি অনুষদের অধীনে ১৯টি বিভাগে অধ্যয়নরত প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী ও কর্মরত ২৬৬ জন শিক্ষক। স্নাতক, স্নাতকোত্তর পর্ব শেষ করেছেন ১১টি ব্যাচের পাঁচ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। সম্প্রতি টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজের ডাক পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী রাজীব চন্দ্র পাল। মেধার স্বাক্ষর রেখে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী লাভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য রয়েছে ৪টি আবাসিক হল। যেখানে ছাত্রদের জন্য তিনটি এবং ছাত্রীদের জন্য রয়েছে একটি আবাসিক হল। যেগুলোর মোট আসন সংখ্যা সর্বসাকুল্যে ১০০০। এতে আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ১৫ ভাগ শিক্ষার্থী। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে দুইটি ডরমিটরি। তাছাড়া একটি ছাত্রী হল এবং শিক্ষকদের জন্য একটি গেস্টহাউজ নির্মাণাধীন রয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চে প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৮ মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ৬২ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির ফলে ব্যাহত হয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন।  শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে নিজস্ব ৮ টি নীল বাস। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এ পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাত জন। ৭ম উপাচার্য হিসেবে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি যোগদান করেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ভূমির পরিমাণ ৫০ একর। ২০১৮ সালের অক্টোবরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৬শ ৫৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন করে অধিগ্রহণ করা হয়েছে ২০০ একর ভূমি। মেগা প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে শেষ হলে আক্ষেপ ঘুচবে অনেক সীমাবদ্ধতার।

প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম সমাবর্তন। এছাড়াও রয়েছে অনেক সংকট ও সীমাবদ্ধতা। শিক্ষক ও শ্রেণীকক্ষ সংকট, ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি, আন্দোলন এবং অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে বিভিন্ন সময় ব্যাহত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয় আইনে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের কথা বলা থাকলেও ছাত্র রাজনীতি চলছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। খোদ বঙ্গবন্ধু পরিষদ এর দুটি গ্রুপে সক্রিয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকরা। স্বতন্ত্র গ্রন্থাগার ও মেডিকেল এর অভাব, অপ্রতুল আবাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ বেশ কয়েকটি বিভাগে রয়েছে প্রকট সেশনজট। গবেষণা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে রয়েছে ল্যাব ও ফান্ডিং সংকট। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করছেন নিজেদের। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ২৫টিরও বেশি সক্রিয় শিক্ষা সাংস্কৃতিক সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ভিত তৈরিতে কাজ করছে নিরলসভাবে। 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট বিবেচনায় এ বছর সীমিত পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দুইবছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হয়নি। বড় পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন না করায় এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে দৈনিক ইত্তেফাককে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন জানান, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ নিয়েছি তারা তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কি আয়োজন করেছে। সেসব দেখে আমরা এই পরিকল্পনা করেছি। আর এই পরিকল্পনার সাথে কমিটির (আহ্বায়ক) সবাই সহমত পোষণ করেছে। কমিটিই আয়োজন স্বল্প পরিসরে করতে চেয়েছে।' তিনি আরো বলেন, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার ব্যাপারে আমিও একমত ছিলাম। কিন্তু স্পন্সর না পাওয়ায় এটা করা যাচ্ছে না। কোন বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়া যাবে না যারা বিশাল বাজেট খরচ করে কনসার্ট করে। আমি টাকা খরচ করবো না কেন! এই টাকা তো সবার টাকা। তবে চাহিদার সাথে সাথে কত টাকা আছে সেটাও দেখতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করতে চাই যেখানে গবেষণা কালচার গড়ে উঠবে। 

ইত্তেফাক/এআই