ক্লাব ফুটবলে কার্লো আনচেলত্তি ‘ডন’ হিসেবে পরিচিত। ৬২ বছর বয়সী এই ইতালিয়ানের আদুরে নামের সঙ্গে সফলতা বেশ সমার্থক বটে। রীতিমতো রেকর্ড-ম্যান তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ চার বার ট্রফি জয়ের রেকর্ড এখন তার দখলে। ২০০৩ ও ২০০৭ সালে মিলানের হয়ে শিরোপা জিতেছেন আনচেলত্তি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০১৪ ও ২০২২ সালের ট্রফি ঘরে তুলেছেন।
শুধু কোচ হিসেবে নয় আনচেলত্তির শোকেসে চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই বারের শিরোপা উঠেছিল খেলোয়াড় হিসেবেও। এসি মিলানের হয়ে ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে পরপর দুই আসরের চ্যাম্পিয়নস দলের সদস্য ছিলেন তিনি।
শনিবার (২৮ মে) রাতে আনচেলত্তির অধীনে প্যারিসে লিভারপুলকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের এটি ১৪তম শিরোপা, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ধারে কাছে আছে শুধু ফাইনালের প্রতিপক্ষ লিভারপুল। অলরেডরা জিতেছে ৬ বার। আবারও ইউরোপ সেরার মুকুট জিতলেন এই ইতালিয়ান কোচ।
নকআউট পর্বে বারবার বিষম চাপে পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। দুর্দান্ত সব রুপকথা লিখে ফাইনালের মঞ্চে এসেছে ক্লাবটি। আনচেলত্তির মতে, এমন উঠা-নামার কারণেই ক্লাবটির শিরোপা জয়ে আশাবাদী লোকের সংখ্যা কম ছিল। যা রিয়ালকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মিশনে সহযোগিতা করেছে।
ফাইনালের পর আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমার জেতা সবচেয়ে কঠিন শিরোপা ছিল এটি। কেউ যে ভাবেনি আমরা ট্রফি জিততে পারি, সেটা আমাদের কাজ বেশ সহজ করে দিয়েছে। যার কারণে দলের খেলোয়াড়দের নিবেদন, আত্মবিশ্বাস, লড়াইয়ের উদ্যম বেশি ছিল, ড্রেসিংরুমে দারুণ একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। শেষ ষোলো থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত আমরা ভুগেছি।’
কোচ হিসেবে চার বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, বিশ্বাসই হচ্ছে না আনচেলত্তির। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না যে আমি চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছি। আমরা কষ্ট করেছি অনেক, তবে দলের সবার নিবেদন ছিল নিখুঁত। মৌসুমটা ভালোভাবে শেষ করেছি বলে খুশি।’
ক্লাব ফুটবলে মৌসুমের অন্যতম সেরা দল লিভারপুল। ইপিএল না জিতলেও ক্লাবটি দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। আর তাদেরকে হারিয়ে ট্রফি জেতায় খুশি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ। তিনি বলেন, ‘লিভারপুল এ বছরে খুব বেশি ম্যাচ হারেনি, অসাধারণ একটা ম্যাচে ওদের হারিয়ে দিলাম আমরা। মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা অন্য যেকোনো ক্লাবের হয়ে জেতার চেয়ে সহজ।’
