সাবেক অ্যাথলেটিক খেলোয়াড় মারিয়ান চৌধুরী মাম্মী বলেছেন, খেলাধুলা আমাদের। আমাদের রক্তেই তো খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা। এজন্য ঐ জায়গাটা ছেড়ে আসিনি, তাই লেগেছিলাম। কথাগুলো বলেছিলেন সত্তর দশকে পূর্ব বাংলায় সাড়া জাগানো জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেটিক খেলোয়াড় মারিয়ান চৌধুরী মাম্মী।
১৯৭৪-৭৬ সালে বাংলাদেশের জাতীয় খেলোয়াড় হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন ব্যাডমিন্টন ও ভলিবল খেলার নিখুঁত শৈলী ও জাদু পরিদর্শন করে। এমনি অদম্য শক্তি-মহীয়সী নারী, আজ তার কর্মদক্ষতা, একাগ্রতা ও মননশীলতা দিয়ে এ সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে তরুণ নারী খেলোয়াড়দের এগিয়ে নিতে বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। শুধু খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। বিচরণ করেছেন রাজনীতি ও সমাজসেবামূলক কাজে। ১৯৫৯ সালে ৩০ মার্চ পূর্ব বাংলার সিলেট অঞ্চলের পুলিশ লাইনে জন্মগ্রহণ করেন মারিয়ান। পিতা পুলিশ কর্মকর্তা হাবিলদার বিশ্বায় ও মাতা গৃহিণী শিয়ানী বিশ্বায়ের ঘরে ছয় পুত্র সন্তানের মধ্যে একমাত্র কন্যা সন্তান ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী। এক কথায় বলা যায়, খেলোয়াড় থেকে রাজনীতি উত্থানে নজিরবিহীন ভূমিকা রেখে চলেছেন।
বহু গুণের অধিকারিণী সুদর্শনী ক্রীড়ামোদি ও রাজনীতিবিদ মারিয়ান চৌধুরীর মাম্মীর সঙ্গে এ নিয়ে আলাপচারিতা হয় প্রতিবেদককের সঙ্গে। এ সময় মারিয়ান চৌধুরী প্রতিবেদককে বলেন, আমি যখন সিলেট জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ছিলাম। সে সময় দেখা যায়, যারা ক্রীড়াঙ্গনে সিলেটে পরিচিতও নয়, যাদের কোনোদিনও খেলার মাঠে দেখিনি ওরাই সেক্রেটারি হয়ে যাচ্ছে। তখন আমি বলি, যাদের কোনো খেলাধুলার ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, কীসের জন্য সেক্রেটারি হচ্ছে একটু বলে দিতে। খেলাধুলা আমাদের। আমাদের রক্তেই তো খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা। এজন্য ঐ জায়গাটা ছেড়ে আসেনি। তাই লেগেছিলাম। এরপর থেকেই ২০১৫ সালে আমার যোগ্যতার প্রমাণ পেয়ে উনারা আমাকে সিলেট জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দিয়েছিল। তারপর ২০১৮ সালে সিলেট বিভাগীয় ও জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদ গ্রহণ করি। পরবর্তিতে সিলেট মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করি। শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলায় আমার বাবা হকি খেলোয়াড় ছিলেন। ঐ সময় তিনি প্রথমবার সিলেট পুলিশ লাইনের হকি টিম গড়ে দিয়েছিলেন। যদিও বাবা পেশায় পুলিশের চাকরি করতেন। কিন্তু খেলাধুলা ছিল তার প্রাণ। তাই শৈশবে খেলাধুলার পরিবেশে বড় হওয়ার জন্য এর প্রতি বেশি মনোনিবেশ ছিলাম। যখন কিশোরী মোহন উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হই, তখন দুই সিফটে স্কুলে ব্যাডমিন্টন ও ভলিবল খেলতাম। ১৯৭৪/৭৬ সালের দিকে দেশের হয়ে জাতীয় ব্যাডমিন্টন ও ভলিবল খেলাতে অংশগ্রহণ করি।
