কাশিয়ানীতে খেলার মাঠে ইট-বালুর ব্যবসা

আপডেট : ৩০ মে ২০২২, ১২:১৩

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সরকারি খেলার মাঠ দখল করে ইট-বালুর ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। উপজেলার বাথানডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন খেলার মাঠটি দখল করে সেখানে ঐ এলাকার এলোয়ার শেখ দীর্ঘদিন ধরে ইট-বালুর ব্যবসা করে আসছেন। তার ভয়ে কেউ এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

জানা গেছে, বাথানডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন সরকারি খেলার মাঠে সপ্তাহের প্রতি শুক্র ও সোমবারে হাট বসে। বাকি দিনগুলোয় মাঠটিতে স্থানীয় শিশু, কিশোর ও যুবকরা খেলাধুলা করে। মাঠটি বহুকাল আগে থেকে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে মাঠটি দখল করে দোকানপাট নির্মাণ ও ইট-বালুর ব্যবসা করায় মাঠের খেলাধুলার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার শিশু, কিশোর ও যুবকরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকাবাসী মাঠ থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি ঐ খেলার মাঠের পূর্বপাশে এলোয়ার শেখ ইট-বালু ও খোয়া মজুত করে ব্যবসা করছেন। উম্মুক্ত এ গোডাউনের ইট, বালু ও খোয়া রাখায় মাঠের দূর্বাঘাস মরে যাচ্ছে। মাঠের সবুজ প্রকৃতি নষ্ট হচ্ছে। এতে মাঠের খেলাধুলার পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া স্তূপ করা বালু বাতাসে উড়ছে। বাথানডাঙ্গা গ্রামের নওশের মোল্লা, কাবুল শেখ জানান, মাঠটি বহুকাল আগে থেকে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে মাঠটি দখল করে ইট-বালুর ব্যবসা করা হচ্ছে। এতে এলাকার বিভিন্ন বয়সের ছেলেরা খেলাধুলা করতে পারছে না।

অভিযুক্ত এলোয়ার শেখ সরকারি খেলার মাঠ দখল করে ইট-বালুর ব্যবসার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন ইট-বালুর ব্যবসা করছি না। দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠেই ইট-বালু রেখে ব্যবসা করছি। এতে কেউ কোনো দিন বাধা দেয়নি। এখন আর মাঠে আগের মতো খেলা হয় না। তাই আমি ব্যবসার কাজে ব্যবহার করছি। সরকারের যখন মাঠ লাগবে, তখন আমি মাঠ থেকে ইট, বালু, খোয়া সরিয়ে নেব। মাঠ ছেড়ে দেব।’ এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘মাঠ দখল মুক্ত করতে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। তারপরও জনস্বার্থে আমরা বিষয়টির খোঁজ নেব। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

ইত্তেফাক/ ইআ