ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। ইত্তেফাক সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) : দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে ঝরনাধারার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বন্ধুদের নিয়ে প্রথমবার বেড়াতে এসেছেন মাধবকুণ্ডে। তিনি বলেন, অনেক ভালো লেগেছে। তবে আরেকটু ভালো লাগত যদি ঝরনার পানি যে জায়গায় পড়ে ওখানে যেতে পারতাম।
গাড়ি চালক ফরহাদ ভূঁইয়া বলেন, মাধবকুণ্ডের আশপাশের সবুজ প্রকৃতি অনেক ভালো লেগেছে। দিন-দুপুরে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ মনকে অন্যরকম করেছে।
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের ইজারাদার সেলিম আহমদ বলেন, ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জায়গার পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও মাধবকুণ্ডে বেড়াতে আসছেন। প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। বুধবার থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে।
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : ভাণ্ডারিয়া থানা ইকোপার্কে ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবারে ছিল বিনোদন প্রেমীদের উপচেপড়া ভিড়।
উপকূলীয় দক্ষিণ জনপদের কঁচা নদীর শাখা পোনা নদী লাগোয়া ঐতিহ্যবাহী ভাণ্ডারিয়া থানা ইকোপার্কে এখন বাহারি পোশাকে তরুণ, তরুণী, যুবক, যুবতীসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড়। এ উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী, রাজাপুর, কাঠালিয়া, আমুয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সড়ক ও নৌপথে এই পার্কে ঘুরতে আসা মানুষ পার্কের মধ্যে থাকা জেব্রা, হাতি, হরিণ, রানার, শাপলা চত্বর, দোলনাসহ বিভিন্ন রাইডসে সপরিবারে সেলফিতে ধরে রাখছেন সুন্দর মুহূর্তকে।
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) : ফুলবাড়ীতে বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ঈদের আনন্দ ও উত্সব উপভোগ করতে বেছে নিয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’।
বুধবার ঈদের প্রথম দিন বিকাল ও ঈদের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার বিকালে ধরলার পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সেতুর দুই পাড়ে হাজার হাজার মানুষের ঢল।
লালমনিরহাট থেকে সোনালী আক্তার ও মোনালিসা এবং নাগেশ্বরীর সাথী ও জীবন জানান, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পরিবারের সঙ্গে শেখ হাসিনা ধরলা সেতু দেখতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে।
বেড়া (পাবনা): বেড়ার যমুনা নদীর তীরে নৌবন্দরে যেনো মানুষের ঢল নেমেছে। প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে একটু খোলা পরিবেশে নদীর কাছাকাছি থাকতে বিনোদনপ্রিয় মানুষ বেছে নিয়েছিল বেড়া নৌবন্দরের বিশাল এলাকা।
চাটমোহর (পাবনা): চাটমোহরসহ চলনবিলাঞ্চলে বিল সড়কসহ বিনোদন এলাকায় বিনোদন পিপাসুরা ভিড় করছেন। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিল বিধৌত বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক, চাটমোহর-মান্নাননগর বিলসড়ক, চাটমোহর-ছাইকোলা সড়কসহ অন্যান্য আঞ্চলিক সড়কে হাজার মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
নিকলী (কিশোরগঞ্জ): হাওরবেষ্টিত নিকলীর বেড়িবাঁধে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের দিন ভোর থেকে শুরু হওয়া ঝড় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে পর্যটকদের ভিড় ছিল।
উপজেলা সদরকে রক্ষায় ২০০০ সালে নির্মিত হয় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ। বর্ষায় এই বাঁধে চারদিক থেকে আছড়ে পড়া হাওরের ঢেউ সমুদ্রসৈকতের অনুভতি এনে দেয়। গাছের ডালে পাখির কিচিরমিচিরে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হয়ে যান।
নিকলী থানার ওসি মো. নাছির উদ্দিন বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে হাওরের এই অঞ্চলে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রচুর পর্যটক আসছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ঈদের দিন থেকে চারদিন এখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ নিয়োজিত রাখতে হয়।
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): এবারের ঈদে ভ্রমণ পিপাসুদের সমাগমে মুখোর হয়ে উঠেছে চলনবিলের তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়কের কুন্দইল সেতু এলাকা (কুন্দইল পয়েন্ট)। ঈদের আনন্দে বৈচিত্র্য আনতে প্রতিদিন তাড়াশ-গুরুদাসপুর উপজেলার হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন কুন্দইল পয়েন্টে।
রাকিবুল হাসান, জুয়েল রানা, সাদিকুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, রবিন হোসেন, শাহারিয়ার, আফছানা খাতুন, মীম খাতুন, রুপালি পারভিন প্রমুখ বলেন, প্রতিবছর ঈদে তারা তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়কের কুন্দইল পয়েন্টে ঘুরতে আসেন। স্থানটিতে না এলে ঈদ আনন্দ পরিপূর্ণ হয় না।
মাগুরা: মাগুরায় নোমানী ময়দানে বিনোদন পিপাসুরা ভিড় করছেন। ঈদ উপলক্ষে এখানে মেলা বসেছে। নানা বয়সের মানুষ এখানে আসছেন। ফলে নোমানী ময়দান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
হোমনা (কুমিল্লা): হোমনায় কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তিতাস নদীর ওপর নির্মিত হোমনা- বাঞ্ছারামপুর সেতু এবং ওয়াই ব্রিজের ওপর প্রকৃতিপ্রেমিরা ভিড় করেছেন।
গঙ্গাচড়া (রংপুর): ঈদকে ঘিরে গঙ্গাচড়ায় শেখ হাসিনা তিস্তা সেতু পাড়ে হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে। একটু আনন্দ উপভোগ করতে তিস্তা পাড়ে দুপুরের পর থেকে লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও রংপুর শহর ও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন লোকজন।
