মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
দেশের অর্থনীতির লাইফলাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। কিছুদিন আগেও ভয়াবহ যানজটের কারণে এ পথে যাতায়াত করা ছিল এক বিভীষিকাময় দুঃসহ যন্ত্রণার। ঢাকা থেকে কুমিল্লা দুই ঘণ্টার সড়কপথে কেটে যেতো আট ঘণ্টা থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত। এবার ফোরলেনের দ্বিতীয় কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর থেকে ঈদ ও ঈদের আগে-পরে চিরচেনা সেই যানজটের ভোগান্তি নেই। এতে যাত্রী ও চালকরা বেশ খুশি। এখন ঢাকা-কুমিল্লা সড়কপথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে মাত্র পৌনে দুই ঘণ্টা।
ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কে চলাচলকারী রয়েল কোচ পরিবহনের চালক আবদুল মান্নান জানান, সেতুর সমান্তরালে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু চালুর পর এবারের ঈদ ও ঈদের আগে-পরে যানজটের ভোগান্তি না থাকায় তিনি বেশ খুশি। তিনি জানালেন, গত ঈদে ঢাকা থেকে কুমিল্লা দুই ঘণ্টার পথ তাকে কখনো আট থেকে ১০ ঘণ্টায় পাড়ি দিতে হয়েছে। কিন্তু ওই তিনটি সেতু চালু হওয়ায় এখন সময় লাগছে মাত্র পৌনে দুই ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা।
বাহরাইন থেকে দেশে আসা কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার বশিরউল্লাহ ও ঠাকুরপাড়ার সৌদী প্রবাসী মাহবুবুর রহমানের অনুভূতি ছিল ভিন্ন রকম। তাঁরা বলেন, ‘গতবছর রোজার ঈদের দুইদিন আগে বিমান থেকে নেমে ঢাকা নগরীর যানজট পেরিয়ে এ মহাসড়কে প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে ছিলাম। ওই কষ্টের কথা মনে হলে শরীর শিউরে ওঠে। কিন্তু মেঘনা ও গোমতী সেতু অতিক্রম করার সময় কিংবা মহাসড়কের কোথাও যানজট না থাকায় পৌনে দুই ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছেছি। ফোরলেনের সেতু ও ফোরলেন মহাসড়কের মাঝখানে রকমারি ফুল গাছে চোখজুড়ানো ফুল দেখে মন ভরে গেছে, মনে হয়েছে এটা যেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সড়ক।’
কুমিল্লা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ফারুক হোসেন সুমন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোরলেন মহাসড়কের নতুন তিনটি সেতু ফোরলেন বিশিষ্ট হওয়ায় নির্ধারিত সময়েই যানবাহন গন্তব্যে যেতে পেরেছে, তাই এবার ঈদ উপলক্ষে এই মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজট ছিল না।
কুমিল্লায় আসা রয়েল পরিবহনের চালক আবু হানিফ জানান, শুক্রবার দুপুরে দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে কুমিল্লায় পৌঁছাতে পেরেছি। এদিকে এবার ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নিরাপদ করতে হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশের পক্ষ থেকেও মহাসড়কজুড়ে ছিল কঠোর নজরদারি। হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য বছর কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু এলাকায় যাত্রীরা যানজটে আটকে থাকলেও এবারের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। দ্বিতীয় কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু চালুর পর সেতুকেন্দ্রিক কোনো যানজট ছিল না, সড়ক ফাঁকা। মহাসড়কে কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ কম সময়ে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে।’
