নেত্রকোনা সদর উপজেলার রাজুর বাজার এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জেলা কৃষক লীগের সদস্য এ কে এম মাসুদ ওরফে ফারুককে (৫২) হত্যা করা হয়েছে। নিহত ফারুক সদর উপজেলার পৌর এলাকার বাহিরচাপড়া গ্রামের মৃত আবদুল মুকিতের ছেলে। ফারুক ঠিকাদারী করতেন বলে পরিবার জানিয়েছে। নিহত ফারুক কালা মাসুদ হিসাবে রাজুর বাজার এলাকায় পরিচিত ছিলেন। এদিকে ঘটনার পরপরই নিহতের স্বজন ও সমর্থকরা একই এলাকার সবুজের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয় এবং ভাংচুর করে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, ‘হত্যাকান্ডের পরপরই খুনিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, প্রতিবেশি এক ব্যক্তির সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল নিহত ফারুকের। অনেকদিন ধরেই ঐ ব্যক্তি ফারুককে হুমকি দিচ্ছিলো। এই ঘটনার সঙ্গে হত্যাকান্ডের কোন সম্পর্ক আছে কি-না সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য সব ক্লু নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রতিবেশি সবুজের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঠিক নয়। ওখানে একটি বয়লারে আগুন লেগেছিল, সেই আগুন আশপাশেও ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে অনেকেই মনে করেছেন সবুজের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। আসলে দুইজনের ছেলেদের মধ্যে একটা ঝগড়া হয়েছে, সে কারণেই এলাকাবাসী ধারণা থেকে সেটা বলছে। আসলে কারো বাড়িতেই কোন আগুন দেওয়া হয়নি।
এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নেত্রকোনা পৌর শহরের বালুয়াখালি এলাকার এ কে এম মাসুদ ফারুকের পুত্র স্বাধিনের (১৫) সাথে ১৫ দিন আগে একই এলাকার সবুজ মিয়ার ছেলে নয়নের (১৫) হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাদের দু’জনের সন্তানই নবম শ্রেণীতে পড়ে। এ নিয়ে সবুজ ও তার ছেলের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা থানায় মামলা করেন ফারুক। এরই জের ধরে গতকাল সন্ধ্যায় রাজুর বাজার এলাকায় ফারুকের ব্যবসায়িক চেম্বারের সামনে তাকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
