বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

দিনে পেশাজীবী, রাতে ডাকাত 

আপডেট : ০১ জুন ২০২২, ০৮:৫০

দিনের বেলায় তারা সিএনজি অটোরিকশাচালক, সবজি বিক্রেতা, রংমিস্ত্রি, মুদি দোকানি, অনলাইনে ফুড ডেলিভারিসহ নানা পেশায় জড়িত। পেশায় আয় কম হওয়ায় একত্রিত হয়ে বেছে নেয় ডাকাতি। দিনে এসব নানা পেশার আড়ালে বিভিন্ন বাসাবাড়ি রেকি করতেন সহজেই। আর রাত হলেই টার্গেট অনুযায়ী নেমে পড়তেন ডাকাতিতে। অস্ত্র হাতে লুট করে নিতেন বাসাবাড়িতে থাকা মূল্যবান সামগ্রী। সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কেরানীগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দুর্ধর্র্ষ এ ডাকাত চক্রের সন্ধান পায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৩১ মে) মোহাম্মদপুরের বছিলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ঐ সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবি তেজগাঁও বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন—মো. সুজন হাওলাদার, রবিউল আউয়াল ওরফে রবি, মো. বাবু ওরফে জুয়েল, মো. রনি, একরাম আলী ও ইব্রাহিম মিঝি । এ সময় তাদের কাছ থেকে একনলা বন্দুক, ডাকাতিতে ব্যবহূত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চাপাতি, দুইটি ছোরা, লোহার রড, পাইপ কাটার রেঞ্জ ও নগদ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান ডিবি উত্তরের যুগ্ম-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, সিএনজিচালক, অনলাইনভিত্তিক ফুড ডেলিভারি ম্যান, রংমিস্ত্রি, মুদি দোকানের কর্মচারীসহ বিভিন্ন পেশার আড়ালে ডাকাত দলের সদস্যরা বাসা রেকি করে তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর রাতের অন্ধকারে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সেসব বাসায় ঢুকে লুটপাট করে। সম্প্রতি রাজধানী মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীর বাসাসহ সাভারে ধামরাই, কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের কয়েকটি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত এ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দুইটি ডাকাতি মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, চক্রের ১৫ থেকে ১৬ সদস্যের সবাই নানা পেশায় জড়িত। এ পেশার আড়ালে থেকেই তারা ডাকাতি করে আসছে। চক্রটির হোতা সাদ্দাম হোসেন পলাতক । তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, আশুলিয়ায় কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারি ম্যান পরিচয় দিয়ে দিনে-দুপুরে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে লুটপাটের চেষ্টার ঘটনা ঘটিয়েছে। গতকাল দুপুরে আশুলিয়ার পলাশবাড়ীর গোচারের টেক এলাকায় কুয়েতপ্রবাসী মোসলেম শেখের মালিকানাধীন শিরীন ভিলার তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দুই জনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। সন্ত্রাসীদের হামলায় আহতরা হলেন—মোসলেমের স্ত্রী শিরিন আক্তার (৩৯), তার ছেলে শাকিল শেখ (২২) ও মেয়ে মুনমুন আক্তার মুন্নি (১৬)। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিরিন আক্তার জানান, বেলা ১১টার দিকে দুই জন ব্যক্তি এসে দরজায় দাঁড়িয়ে জানায়, কুয়েত থেকে তাদের জন্য পার্সেল এসেছে। পরে দরজা খুলতেই তারা পেটে পিস্তল ধরে মুখ বন্ধ করে ঘরে প্রবেশ করে মুন্নি ও শাকিলসহ তাকে মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার মেয়ে কৌশলে বাসা থেকে বের হয়ে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা এসে ঐ দুই ডাকাতকে আটক ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে বিষয়টি থানাকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই ডাকাতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তারা কোনো মালামাল নিতে পারেনি।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি অপারেশন) আব্দুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুই জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের স্থানীয়রা মারধর করায় দুই জনই আহত হয়েছে। অন্যদিকে বাড়ির লোকজনও সন্ত্রাসীদের মারধরে আহত হওয়ায় তাদের উদ্ধার করে চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/কেকে