শুধু পদ্মা সেতুই প্রধানমন্ত্রীর মুখ উজ্জ্বল করে নাই—

আপডেট : ০১ জুন ২০২২, ০৮:৫৪
সোমবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সেনা সদর দপ্তরের মালটিপারপাস কমপ্লেক্সে আর্মি সিলেকশন বোর্ড-২০২২-এর বৈঠকে বক্তব্য রাখিবার সময় বলিয়াছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিজেদের অর্থে নির্মাণে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হইয়াছে| তিনি উহা যেই অর্থে বলিয়াছেন তাহা তো সঠিক বটেই, কিন্তু আমরা তাহার এই ছোট্ট উক্তিটিকে আরো একটু ব্যাপক পরিসরে দেখিতে চাই| কেবল পদ্মা সেতুর কারণেই দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় নাই, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে যে মহা-কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হইয়াছে এবং সম্পন্ন হইবার পথে- তাহা সচেতন মানুষ মাত্র অবগত| উহা সকলকেই তাক লাগাইয়া দিয়াছে|
একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও অন্যতম প্রাজ্ঞ ব্যক্তি সম্প্রতি ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করিয়া বলিয়াছেন, এ কী এলাহি কারবার সম্পন্ন হইতেছে! ইহা তো অবিশ্বাস্য! আমাদের কী ছিল আর বর্তমানে উন্নয়ন সত্যিই কোথায় গিয়া দাঁড়াইয়াছে! এই অসাধারণ পণ্ডিত ব্যক্তির অবলোকনে কোনো অতিরঞ্জন নাই| এই পদ্মা সেতুর প্রি-ফিজিবিলিটি টেস্ট হইয়াছিল বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার প্রথম দফায় ১৯৯৯ সালে| ২০০১ সালের ৪ জুলাই তিনিই পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করিয়াছিলেন| এই তথ্যও পদ্মা সেতুর ইতিহাসের সাক্ষী| দীর্ঘ একটি বিরতির পর তিনি পুনরায় সরকার গঠন করিয়া যেই সার্বিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করিয়াছেন তাহার ফল পুরো জাতির সম্মুখে একে একে উপস্থিত হইতে শুরু করিয়াছে| পদ্মা সেতু ছাড়াও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশের টানেল নির্মাণ, বে-টার্মিনাল, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-গুনদুম প্রকল্পসহ সারা দেশে এত প্রকল্প চলমান এবং সমাপ্তের পথে যে লিখিয়া শেষ করিতে কষ্ট হইবে| কেবল অবকাঠামোর ক্ষেত্রেই নহে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবায়, কৃষিপ্রযুক্তি, ডিজিটালাইজেশন, নারী ও শিশু উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা—হেন কোনো ক্ষেত্র নাই, যাহাতে অবিশ্বাস্য উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নাই| সারা দেশে গড়িয়া তোলা হইতেছে অর্থনৈতিক অঞ্চল| বাংলাদেশের রপ্তানি তালিকায় যোগ হইতেছে নূতন নূতন পণ্য| একাধিক আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি বিশালসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যার সমাধান করিয়াছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী- যাহা বিশ্বের আমাদের চাইতে আকারে বড় অর্থনীতির অনেক দেশ করিতে পারে নাই| সারা দেশে জালের মতো বিছাইয়া গিয়াছে সড়ক| যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঘটিয়াছে বিপ্লব| উপজেলা পর্যায়ের সড়কগুলি পরিণত হইতেছে আঞ্চলিক মহাসড়কে, আঞ্চলিক মহাসড়কগুলি পরিণত হইতেছে মহাসড়কে| ১০ বত্সর পূর্বে যেই সকল সড়ক দিয়া একটি রিকশা চলিতে কষ্ট হইত, সেই সড়কগুলি এখন ১৪-১৮-২০ ফুট প্রশস্ত হইতেছে| যেই যমুনা সেতুতে রেলপথ করিবার জন্য কাঠখড় পোড়াইতে হইয়াছিল, কষ্টেসৃষ্টে কোনোরকমে একটি রেলপথ করা হইয়াছিল বটে, সেই যমুনার উপর নির্মিত হইতেছে দ্বিতীয় রেলসেতু|

এখন গর্ব করিয়া বলা যায়, সারা বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি দেশ যখন নানা ধরনের সংকটে নিপতিত, তখন তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশকে প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট স্থিতিশীল রাখিতে পারিয়াছেন| স্বাধীনতার পরপর যেই দেশের মানুষ বিদেশযাত্রায় মাত্র ১০ পাউন্ড লইয়া যাইবার অনুমতি পাইত, সেই বাংলাদেশের একজন নাগরিক এখন ১২ হাজার ডলার বহন করিতে পারে! সর্বোপরি বৈশ্বিক মন্দা এবং সর্বশেষ চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে যখন সারা বিশ্ব নড়বড়ে হইয়া উঠিয়াছে, তখন এই পরিস্থিতিতেও ঠান্ডা মাথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত দেশকে যথেষ্ট স্থিতিশীল রাখিতে পারিয়াছেন, ইহাও অবশ্যই ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের বিশেষ কারণ|

ভারতের বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা ভানু বন্দ্যােপধ্যায়ের একটি কৌতুক আছে, একজন প্রতিবেশীর ছেলে পরীক্ষা দিলে ভানু বলিতেছে, পরীক্ষা দিলে কী অবে পাশ করিতে পারিবে না; পাশ করিয়া আসিয়া জানাইলে ভানু বলিতেছে, পাশ করিলে কী হইবে, চাকরি পাইবে না| এই সম্প্রদায় সর্বযুগে সর্বমহলেই ছিল| ইসলামের রসুলে আকরামের পথে কাঁটা ছিটাইয়া রাখিবার লোকও ছিল| কিন্তু সত্য উচ্চারণের মানুষও সর্বযুগেই ছিল, যেমন এখনো অনেক আন্তর্জাতিক প্রশংসা নানা ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাইয়া আসিতেছেন| সুতরাং শুধু পদ্মা নহে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছোঁয়া সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে পরশপাথরের মতো কাজ করিয়াছে|

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন