বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভালোবাসার টানে নদী সাঁতরে ভারতে বাংলাদেশি তরুণী

আপডেট : ০১ জুন ২০২২, ১৫:১১

ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভারতীয় যুবকের প্রেমে পড়েন কৃষ্ণা। প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে সাঁতার কেটে ভারতে যান তিনি। কালীঘাটে গিয়ে বিয়েও করেন তারা। কিন্তু এই সাহস ও ভালোবাসার কাহিনী পৌঁছে যায় পুলিশের কানে।

শুধু মহাকাব্যেই নয়। ‘মনপুরা’ সিনেমাতেও এমন উদাহরণ রয়েছে। পরীর ভালবাসার টানে সাঁতরে নদী পার হতো সোনাই।

গল্প-কাহিনীতে প্রেমিকরাই সাধারণত সাঁতরে নদী পার করেন। তবে বাস্তব কল্পনার চেয়েও বিস্ময়কর। বাস্তবে প্রেমিকাই সাঁতরে চলে গেলেন প্রেমিকের কাছে। ভারতের প্রেমিকের হাত ধরলেন বাংলাদেশের কৃষ্ণা মণ্ডল। মাতলার ঢেউয়ে মুছে ফেললেন সীমানার গণ্ডি।

তবে গ্রিক হোক বা বাংলাদেশি- দুই প্রেম কাহিনীরই শুভ পরিণতি হয়নি। বাস্তবেও শেষটা মধুর হল না। বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ওই তরুণীকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

জেরায় তরুণী জানান, প্রেমিকের সঙ্গে আলাপ ফেসবুকে। নরেন্দ্রপুরের রানিয়ার অভীক মণ্ডলের সঙ্গে মেসেঞ্জারেই প্রেম। ঠিক করেন তাকেই বিয়ে করবেন। কিন্তু মাঝে যে সীমান্তের বাধা! তার যে পাসপোর্ট বা ভিসা নেই।

তারপরেই সিদ্ধান্ত নেন কৃষ্ণা। ঠিক করেন, সাঁতরেই ভারতে যাবেন। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। প্রথমে বাংলাদেশের সুন্দরবনের জঙ্গল ঘেরা পথে আসেন। তারপর নির্দিষ্ট স্থানে নদীত নামেন। প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে মাতলার ঢেউয়ে সাঁতার কাটেন। জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ- কোনও ভয়ই দমাতে পারেনি তাকে।

সাঁতরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় ওঠেন কৃষ্ণা। সেখানেই অপেক্ষা করছিলেন প্রেমিক অভীক। তাকে গাড়িতে করে নিয়ে আসেন তিনি। এরপর কালীঘাটে গিয়ে বিয়ে করেন তারা।

বিয়ের পর সুখের সংসারও পাততে শুরু করেন দু’জনে। এদিকে এই সাহস ও ভালোবাসার কাহিনীই কাল হল। লোকের মুখে ছড়িয়ে পড়ে তার সাঁতরে নদী পার করার গল্প। খবর পৌঁছে যায় পুলিশের কানে।

সোমবার রানিয়া এলাকায় অভিযান চালায় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, দিন চারেক আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন কৃষ্ণা। মঙ্গলবার তাকে আদালতে পেশ করা হবে।

ইত্তেফাক/এসজেড