রংপুর নগরীর চার লেনের প্রধান সড়কে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করায় চলাচলে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন নগরবাসী। নগরীর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মোড় এলাকায় চার লেনের সড়ক। দুই পাশের প্রথম দুই লেনে অবৈধভাবে রাখা হয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল। কোথাও ইজিবাইক দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের ডাকা হচ্ছে। আর একটি লেন দখল করে বসে আছেন হকাররা। নগরীর সাইফুল, দুলাল ভৌমিক, আনোয়ার হোসেনসহ কয়েক জন এই পরিস্থিতি বর্ণনা করে বললেন, প্রধান সড়ক চার লেন হওয়ার পর তারা ভেবেছিলেন, স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। সড়কের এক পাশ নানাভাবে দখল করে রাখায় তাদের দুর্ভোগের অন্ত নেই।
দেখা গেছে, নগরীর কোলাহলময় এলাকা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মোড় থেকে শহরের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় পর্যন্ত, সিটি বাজারের সামনে দিয়ে শাপলা চত্বর হয়ে লালবাগ এবং পার্ক মোড় হয়ে মডার্ন মোড় পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়ক চার লেন হলেও এর সুবিধা নগরবাসী পাচ্ছে না। নগরীর মেডিক্যাল মোড় থেকে শহরের ভেতরে যেতে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার চার লেন সড়কের দুই পাশে গাড়ি বা মোটরসাইকেল দাঁড় করে রাখা হয়েছে। এর ফলে এক লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। অফিস ও স্কুল ছুটি হওয়ার সময় সড়ক জুড়ে লেগে যায় যানজট। এক লেন দিয়ে গাড়ি চলায় ভোগান্তির শিকার হন নগরবাসী।
মেডিক্যাল সড়কে বেসরকারি ক্লিনিকের সামনে গাড়ি পার্ক করে দীর্ঘক্ষণ বসেছিলেন চালক মোজাম্মেল হক। তিনি বললেন, ‘এসেছি অনেক দূর থেকে। রোগীর পরীক্ষানিরীক্ষা হলে চলে যাব। কিন্তু অন্য কোথাও পার্কিংয়ের সুবিধা নেই বলে এভাবেই সড়কের পাশে থাকতে হচ্ছে।’ মেডিক্যাল এলাকার ব্যবসায়ী হাসান বলেন, রাস্তা চার লেন হলো ঠিকই। কিন্তু সেই সুবিধা তো জনগণ পাচ্ছে না। সড়কের অর্ধেক জুড়ে শুধু পার্কিং।
নগরীর সিটি বাজারের সামনে থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত এক কিলোমিটার জুড়ে সড়কের দুই পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ পণ্য বিক্রেতারা তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। হকারদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে আসা মানুষজন সড়কের ওপরে দাঁড়িয়ে দরদাম করছে। লালবাগ এলাকা থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত সড়কেরও একই অবস্হা। কয়েক জন হকার বলেন, সিটি বাজারে প্রতিদিন অনেক মানুষ কেনাকাটা করতে আসে। এর ফলে এখানে পণ্য নিয়ে বসেন তিনি। নগরীর প্রাণকেন্দ্র জাহাজকোম্পানি মোড় এলাকার ব্যবসায়ী দুলাল সরকার বলেন, এই সড়কটির নামেই চার লেন। সড়ক বিভাজকের দুই দিকে দুটি করে লেন। কিন্তু দুই পাশের এক লেন সব সময় দখল থাকে। এর ফলে কেনাকাটা করতে আসা মানুষকে ভোগান্তিত পোহাতে হচ্ছে। রংপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, রাস্তার পাশে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি না রাখার জন্য প্রায় সময় অভিযান চালানো হয়। জরিমানাও করা হয়ে থাকে। কিন্তু অভিযান শেষ হলে আবার পার্কিং। রংপুরের সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে শুরু হয়ে ২০১৪ সালে চার লেন সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেছেন, নগরবাসীর চলাচলে সুবিধার জন্য এই চার লেন সড়ক করা হয়েছে। কিন্তু সড়কের দুই পাশে অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
