দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার চকচকা গ্রামের শাক বিক্রেতা রাবেয়া বেওয়া (৫৫)। তিনি বিভিন্ন ঝাপঝোড় থেকে কচুসহ বিভিন্ন শাক তুলে পৌর শহরের কয়েকটি হোটেলে বিক্রি করেন। একই সাথে তিনি সকাল ১১ টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন বাসাবাড়ীতেও কাজ করেন। শাক বিক্রি আর বাসাবাড়ীতে কাজ করার পারিশ্রমিকের টাকা দিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ী ফেরার আগে পৌর বাজার থেকে দু’কেজি চাল কিনে নিয়ে যান। এখন শাক বিক্রির ২৫ টাকা আর দুই বাসায় বাসন পরিষ্কার করার বাবদ ২০ টাকা মোট ৪৫ টাকা দিয়েও এককেজি চাল কিনতে পারছেন না। সব জিনিসের দাম বেড়েছে, কিন্তু তার শাকের দাম বাড়েনি। তার দাবি যেভাবে হোক চালের দাম যেন কমানো হয়। নাহলে তাদের মতো গরীব মানুষের বাঁচাটা কঠিন হয়ে পড়বে।
পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী গ্রামের রিকশা চালক আফজাল হোসেন। নিজের জমিজমা বলতে আড়াই শতক বসতবাড়ি ছাড়া অন্য কিছুই নেই। সারাদিনে রিকশা চালিয়ে যা আয় হয়, তার মধ্যে রিকশা মালিককে ১৫০ টাকা জমা দিতে হয়। তারপর যা থাকে সেটাই তার দিনের আয়। মানুষের হাতে টাকা পয়সা না থাকায় রিকশায় যাতায়াত করতে চাচ্ছেন না। এ কারণে পূর্বে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত দিনে আয় হলেও এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় এসেছে। সেটিও কোন কোন দিন হচ্ছে না। আবহাওয়া তপ্ত হওয়ায় বেশি সময় ধরে যাত্রী বহন করাও যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, মোটা চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মতো মানুষের বিপদ হয়ে গেছে। দামের কারণে মোটা চাল কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফুলবাড়ী চালের বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৭ থেকে ৯ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজার তদারকির ব্যবস্থা না থাকায় নিত্যপণ্যের সঙ্গে চালের দাম বাড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
জানা যায়, এক সপ্তাহ আগেও উপজেলার প্রতিটি হাটবাজারে মোটা চাল বিক্রি হয়েছে ৩৮ থেকে ৪১ টাকা কেজি দরে। এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে। মিনিকেট চাল ৫৩ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। এরমধ্যে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা কেজিদরে শম্পা কাটারী বিক্রি হচ্ছে ৬৪ থেকে ৬৫ কেজি দরে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে চিকন চালের। ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
পৌর বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতার জয় প্রকাশ গুপ্ত ও আকবর আলী বলেন, বিভিন্ন অটোরাইস মিলসহ চালের আড়ৎদারদের কাছ থেকে চাল কিনে এনে খুচরা বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ধানের দাম বেশি হওয়ার কারণে অটোরাইস মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাড়তি দামে চাল কিনতে হচ্ছে বলেই তাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

দুধসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ালো মিল্ক ভিটা