পাঁচবিবিতে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে

আপডেট : ০২ জুন ২০২২, ১৫:৩০

শ্রমিকসংকটের কারণে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় কৃষি ক্ষেত্রে বাড়ছে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার যন্ত্রের ব্যবহার। কম সময় ও কম খরচে ফসল কেটে গোলায় তুলতে পেরে খুশি কৃষকরা। এছাড়া একই সঙ্গে ধান মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তা করে ফেলা যাচ্ছে। ফলে বাড়তি কোনো খরচ ছাড়াই সহজেই ঘরে ধান তুলতে পারছেন তারা। কিন্তু চাহিদার তুলনায় কৃষিযন্ত্রের পরিমাণ কম থাকায় একই সঙ্গে অনেকে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষকরা এসব যন্ত্র বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, কৃষক সংগঠন ও কৃষকদের মধ্যে সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ও খামার যান্ত্রিকরণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় সরকারি ভর্তুকি মূল্যে ১৩টি কম্বাইন হারভেস্টার, একটি মিনি কম্বাইন হারভেস্টার, একটি রিপার ও দুটি রাইস ট্রান্সপার যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি মেশিন দিনে ৮-১০ একর জমির ধান কাটতে পারে। 

উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম চৌধুরী শাহিন নিজের প্রয়োজনে ভর্তুকি মূল্যে একটি ইয়ামামা হারভেস্টার কিনেন। তিনি জানান, প্রথম দিকে যন্ত্রগুলো কৃষকের সাড়া না পেলেও, শ্রমিকসংকট ও মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এ যন্ত্রের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলা কুটুহারা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে সেই ধান বাড়িতে নিয়ে ঝাড়াইসহ বস্তা করতে অনেক খরচ হয়। কিন্তু হারভেস্টার মেশিন দিয়ে জমির ধান কর্তন, মাড়াই ও ঝাড়াই হয়ে বস্তা করে পাচ্ছি। সেটি কোনো ঝামেলা ছাড়াই আড়তে বিক্রি করা যায়।

উপজেলার কেওতা গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান বলেন, হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কেটে আমাদের বিঘাপ্রতি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

হারভেস্টার চালক আব্দুর রহিম জানান, এই মেশিনে ২০ মিনিটে এক বিঘা জমির ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তা করা যায়। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফর রহমান জানান, বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের অনেক ক্ষতি হয় সে কারণে কৃষিযন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা অনেক ব্যয়বহুল। সে তুলনায় হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা খরচ প্রায় অর্ধেক। তিনি আরো বলেন, আগ্রহী কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কৃষিযন্ত্র সরবরাহ করে গোটা উপজেলা খামার যান্ত্রিকরণের মাধ্যমে কৃষকরা ধান রোপণ, কর্তন করতে পারে সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে কৃষি বিভাগ। 

ইত্তেফাক/এআই