স্বজনদের ভালোবাসার কাছে হার মেনেছে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া। হিলি সীমান্তে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে ও স্বজনদের এক নজর দেখতে হিলি সীমান্তে ঢল নেমেছে দুই দেশের বাসিন্দাদের। ঈদ ও বিভিন্ন উত্সবে সীমান্ত এলাকার স্বজনদের সঙ্গে এমন সাক্ষাতের সুযোগ করে দেয় দুই পাড়ের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। এবার ঈদের দিনসহ তিনদিন স্বজনদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ঈদের দিন নামাজের পর থেকেই হিলি সীমান্তের দুই ধারে স্বজনদের ভিড় জমে ওঠে। সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের এ ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এর পরেও অনুমতিক্রমে কিছুক্ষণের জন্য স্বজনদের দেখা পেয়ে খুশি সবাই। অনেককে স্বজনদের সঙ্গে উপহার সামগ্রী বিনিময় করতে দেখা গেছে। শুধু তাই না, মুসলিমদের পাশাপাশি অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে সীমান্ত এলাকায় ভিড় জমান।
এদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-বিএসএফকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মিষ্টি ও ফুল দেওয়া হয়। এসময় কোলাকুলিও করেন উভয়বাহিনীর সদস্যরা। পক্ষান্তরে বিএসএফও বিজিবিকে মিষ্টি উপহার দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানায়।
ওইদিন সকাল ১০টায় দিনাজপুরের হিলি চেকপোস্ট গেটে সম্প্রীতির এই মিষ্টি বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এসময় এই চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আসা-যাওয়াকালে পাসপোর্ট যাত্রীরা উভয় বাহিনীর মিষ্টি বিনিময়ের দৃশ্যটা উপভোগ করেন।
বিজিবির হিলি সিপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার চাঁন মিয়া জানান, ভারতের বিএসএফের রায়গঞ্জ সেক্টর কমান্ডার, পতিরাম ১৯৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়কসহ বিএসএফের কয়েকটি বিওপি কমান্ডারের নামে মিষ্টির ১২টি প্যাকেট দেওয়া হয়। দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার, জয়পুরহাট- ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও হিলি সিপি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ মোহাম্মদ আনিসুল হক ভারতের পতিরাম ১৯৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বি এস নেগীর হাতে মিষ্টির প্যাকেটগুলো তুলে দেন। বিএসএফের পক্ষ থেকেও বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের হাতে মিষ্টির ১২টি প্যাকেট দেওয়া হয়।
এদিকে ভারতের পতিরাম ১৯৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বি এস নেগী সাংবাদিকদের জানান, বিজিবিকে আমরা তাদের ধর্মীয় উত্সব উপলক্ষে মিষ্টি দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। উভয় বাহিনী সীমান্তে নিজেদের মধ্যে ছাড়াও মানুষজনের মধ্যে শান্তি স্থাপনে সব সময় কাজ করছে।
হিলি সীমান্তে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা বাংলাদেশের মোশারফ হোসেন বলেন, আমার বিয়ে হয়েছে ভারতে। এ কারণে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ও নিকটাত্মীয়দের অনেকই ভারতের বাসিন্দা, তারা সেখানেই থাকেন। সব সময়তো আর পাসপোর্ট-ভিসার মাধ্যমে আসা-যাওয়া সম্ভব হয় না, তাই ঈদসহ বিভিন্ন উত্সবের জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি। এসময় সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে বিজিবি ও বিএসএফের অনুমতিক্রমে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করি। বিজিবির অনুমতিক্রমে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে শ্বশুড়বাড়ির আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছি। আমার মেয়েও তার মামার সঙ্গে দেখা করেছে ও কথা বলতে পেরেছে, এতে আমরা খুব খুশি।
বিজিবির হিলি আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার চাঁন মিয়া জানান, প্রতিবছরই মুসলমান সমপ্রদায়ের যেমন ঈদ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজাসহ দু’দেশের বিভিন্ন উত্সবে হিলি সীমান্তের দু’পাড়ে অনেক মানুষ ভিড় জমান। স্বজনদের এ মিলনমেলায় সব একাকার হয়ে যায়। এবারও ঈদের দিন থেকেই এমন অবস্থা শুরু হয়েছে। নিয়মের মধ্যে থেকে পর্যায়ক্রমে সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে পারছেন।
