ঝিনাইদহে মিল পর্যায়ে চালের দাম কেজিতে দুই টাকা কমেছে

আপডেট : ০৪ জুন ২০২২, ০৩:২১

ঝিনাইদহে চালের দাম মিল পর্যায়ে কেজিপ্রতি প্রকারভেদে দুই টাকা করে কমেছে। তবে খুচরা পর্যায়ে দাম চার-পাঁচ দিন যাবৎ স্থির রয়েছে। আবার বিভিন্ন বাজারে একই চাল ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ধানের দামও মণপ্রতি ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

ঝিনাইদহ নতুন হাটখোলা বাজারে খুচরা চাল বিক্রেতা পলাশ সাধু জানান, মোটা চাল স্বর্ণা প্রতি কেজি ৪০ থেকে বেড়ে ৪৬ টাকা, বি-আর- ২৮ প্রতি কেজি ৫২ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, মিনিকেট প্রতি কেজি ৫৬ থেকে বেড়ে ৬৪ টাকা ও বাসমতি ৬৮ থেকে বেড়ে প্রতি কেজি ৭২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। তিনি আরো জানান, চার-পাঁচ দিন যাবৎ খুচরা বাজারে চালের দাম স্থির রয়েছে। 

অপরদিকে শৈলকুপা বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা রবীন্দ্র সাহা বলেন, স্বর্ণা প্রতি কেজি ৪২ টাকা, বি আর-২৮ প্রতি কেজি ৪৮ টাকা, মিনিকেট ৬০ টাকা ও বাসমতি প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনিও বলেন, কয়েক দিন ধরে চালের বাজার স্থির রয়েছে। 

ঝিনাইদহ বাজারে ক্রেতা এনামুল কবির বলেন, শুক্রবার মিনিকেট প্রতি কেজি ৬৬ টাকা দরে কিনলেন। পণ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের কোনো ঘাটতি নেই। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের ঘরে প্রচুর চাল রয়েছে। 

শৈলকুপার পাইকারি চাল ব্যবসায়ী রঞ্জন সাহা বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম কেজিপ্রতি এক টাকা করে কমেছে। ঝিনাইদহের অটো রাইস মিল জোহান অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, চালের দাম মিল পর্যায়ে কেজিতে দুই টাকা করে কমেছে। বর্তমানে বাজারে চালের চাহিদাও কম বলে তিনি জানান।

অপরদিকে খোলা বাজারে মোটা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৫০ টাকা, মাঝারি চিকন ধান ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা, মিনিকেট ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং বাসমতি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা কৃষিপণ্য মার্কেটিং অফিসার গোলাম মারুফ খান বলেন, বাজারে প্রচুর ধান-চাল আছে। চালের দাম কয়েক দিন স্থির রয়েছে। বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।

ফুলবাড়ীতে অভিযানেও কমছে না চালের দাম

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, ফুলবাড়ীতে চালের দাম স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই দিনব্যাপী সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফুলবাড়ীর তিনটি অটোরাইস মিলে মজুত বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বুধ ও মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াজ উদ্দিনের নেতৃত্বে ধান ও চাল মজুত বিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু অভিযান পরিচালিত হলেও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার পর্যন্ত চালের দাম কমেনি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধান ও চাল মজুত রাখা, দোকানে নিম্নমানের চাল রাখা, ফুড গ্রেইন লাইসেন্স না থাকা, ক্রয়-বিক্রয় রশিদ না থাকাসহ নানা অপরাধে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ফুলবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে কোনো অনিয়ম পায়নি ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান অব্যাহত রেখেছেন জেলা জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম রুনি।

পৌর বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা জয় প্রকাশ গুপ্ত ও আকবর আলী বলেন, বিভিন্ন অটোরাইস মিলসহ চালের আড়ত থেকে বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে বলেই খুচরা বাজারে তাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফুলবাড়ী উপজেলা চাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, বর্তমানে উপজেলার হাট-বাজারসহ সর্বত্রই চড়া দামে ধান বেচাকেনা চলছে। চড়া দামে ধান কিনতে হচ্ছে বলেই চালও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এর কারণে এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, কেউ যাতে ফুড গ্রেইন লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা না করে এবং অবৈধ মজুত করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কঠোর আইনি ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি