জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে আম বেচাকেনা

আপডেট : ০৭ জুন ২০২২, ২০:৩০

শুধু হাটবাজারেই নয়, অনলাইনে আম কেনা এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাড়িতে বসেই এখন অনলাইনে আম কিনতে পারছেন ক্রেতারা। বাগান থেকে কেমিক্যালমুক্ত আম চলে আসছে বাড়িতে, বাড়তি কোনো ঝামেলা ছাড়াই।

ঢাকাসহ সারাদেশে এখন পুরোদমে আম বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, কেমিক্যালমুক্ত আম পাওয়ার নিশ্চয়তা ও করোনাকালের অভিজ্ঞতা থেকে এ ধারা যথেষ্ট বেগবান এখন। এ বেচাকেনায় পিছিয়ে নেই রাজশাহীর আম। গত কয়েক বছরের মতো চলতি বছরও অনলাইন বাজারে এ অঞ্চলের আমের বেচাকেনা জমে উঠেছে। একই মাধ্যমে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

রাজশাহী ও জেলার কয়েকটি উপজেলায় অনলাইনে আম বেচাকেনা হচ্ছে। অর্ডার করা থেকে শুরু করে টাকা আদান-প্রদান সবকিছুই অনলাইনে হচ্ছে। অর্ডার করার দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই সরাসরি ভোক্তার হাতে পৌঁছে যাচ্ছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফরমালিনমুক্ত আম। ফেসবুকে পেজ খুলে সেখানে আমের ছবি পোস্ট করে প্রচার চালিয়ে ক্রেতার নজর কাড়েন ব্যবসায়ীরা। ছবি দেখে ফেসবুকের মাসেঞ্জারে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আমের অর্ডার করেন ক্রেতারা।

এদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফেসবুককেন্দ্রিক আম বিক্রয় শপ তাজা হাট প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুক পেজে আমের নাম, ছবি, দাম ও অর্ডার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আম বিক্রয় করছে। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম বিখ্যাত গোপালভোগ আমের প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু হয়েছে। আমের পরিপক্কতার বিবেচনায় পৌঁছে দেওয়ার সময় ২-৩ দিন কম বেশি হতে পারে, যা ক্রেতাদের কাছে পাঠানোর আগে জানানো হবে। ক্রেতাদের কাছে ফরমালিন, কার্বাইড ও ইথেফোন মুক্ত নির্ভেজাল আম পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রি-অর্ডারের নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে। সর্বনিম্ন অর্ডার ২০ কেজি। কেউ ৪০ কেজি অর্ডার করলে সেক্ষেত্রে ১ কেজি আম ফ্রি দেওয়া হবে।

আমগুলো ক্যারেটে করে পাঠানো হয় বলে হওয়ার সুযোগ থাকে নেই। প্রতিটি ক্যারেটে সর্বনিম্ন ২০-২২ কেজি আম ধরে এবং প্রতিটি ক্যারেটমূল্যসহ প্যাকেজিং খরচ ১৩০ টাকা। তারা কোনোপ্রকার কার্টনের মাধ্যমে আম ডেলিভারি করে না, তাতে আম নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই অর্ডারের ক্ষেত্রে ক্যারেট হিসেবেই অর্ডার নেয়া হয়। সেক্ষেত্রে অর্ডার হয় ক্যারেট সমপরিমাণ হিসেবে।

আমগুলো কুরিয়ারে পাঠানো হয়। সেক্ষেত্রে কুরিয়ার চার্জ আলাদা করে যোগ হবে। এটি এলাকাভেদে একেক জায়গায় একেক রকম হবে। বিকাশ, রকেট, নগদ ছাড়াও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়। অর্ডারের জন্য তাজাহাটের পেজে যোগাযোগ অথবা সেখানে দেয়া নম্বরে কল করলে ক্রেতার কাছে বাগানের সেরা আমটি পৌঁছে যাবে।

তাজা হাটের কর্ণধার সাকেনা বেগম বলেন, আমাদের নিজস্ব আম বাগান রয়েছে। বাগান থেকে ফরমালিনমুক্ত আম সরাসরি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে আমাদের প্রতিষ্ঠান। অনলাইনে আমের অর্ডার থেকে শুরু করে টাকা-পয়সার লেনদেন সবকিছুই হয়।

তিনি বলেন, ফেসবুকে আমের নামসহ বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া রয়েছে। এদের মধ্যে জনপ্রিয় আমগুলো হলো- খিরসাপাত, হিমসাগর, ফজলি, ল্যাংড়া, লক্ষ্মণভোগ, গুটি, কালিভোগ, আশিনা, গোপালভোগ ইত্যাদি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি