বাইকিং ও গেমিংয়ের নেশা রাহাতের

আপডেট : ০৮ জুন ২০২২, ১৩:১৫

পাশ্চাত্যে বাইক স্ট্যান্ট ভীষণ জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে অতটা প্রচলিত নয়। ঢাকার গন্ডি পেরিয়ে স্ট্যান্টবাজির কারিশমা দেখার সুযোগ তেমন মেলে না। নোয়াখালী জেলার বাইকপ্রেমীদের এক্ষেত্রে ভাগ্যবান বলা চলে। রাহাত হোসেইন নামক এক তরুণের হাত ধরে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই জেলায় শুরু হয় বাইক স্ট্যান্ট।

রাহাতের জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই নোয়াখালীতে। তিনি 'নোয়াখালী রাইডার্স—এনআরজেড' নামের যে কমিউনিটি চালান, তার আদলেই সবাই তাকে চেনে 'রাহাত এনআরজেড' নামে। ২০১৪ সালে শুরু করলেও মাঝে কিছুটা শ্লথ হয়েছিল গতি। কয়েক বছর বিরতি দিয়ে পুরোদমে শুরু করেন বাইক নিয়ে কাজ। 

স্ট্যান্টের কাজ শুরু করার পর সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে রাহাত সবসময় নজর দিতে চেয়েছেন ভিন্নতায়। চেয়েছেন, নতুনত্বের সাথে মানুষকে পরিচিত করাতে। অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে তাকে সফল বলা চলে। নোয়াখালী রাইডার্স শুধু রাইডিং ও স্ট্যান্টে সীমাবদ্ধ নেই। তারা কাজ করছে মোটরসাইকেল চালানো সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে। পাশাপাশি অসহায়ের পাশে দাঁড়াচ্ছে সামর্থ্য অনুযায়ী।

স্বপ্নবিলাসী তরুণ রাহাত চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। ই-স্পোর্টস বা অনলাইন গেমিং বাংলাদেশে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে বেশিদিন হয়নি। রাহাত তার ছাপ রাখছেন সেখানেও। ২০১৯ সালে আত্মপ্রকাশ করেন এই সেক্টরে। 'এনআরজেড ই-স্পোর্টস' নামে রয়েছে নিজস্ব একটি গেমিং টিম। যারা অংশ নেয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। এছাড়া রাহাত এনআরজেড নামে একটি চ্যানেল রয়েছে, যেখানে তিনি ই-স্পোর্টস ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করেন। চ্যানেলটি থেকে ইতোমধ্যে পেয়েছেন ইউটিউব সিলভার প্লে বাটন।

রাহাতের মতে, 'ই-স্পোর্টস সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। গেমিংয়ের প্রতি উঠতি প্রজন্মের ঝোঁক তুলনামূলক বেশি। অনেকেই গেমিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছে। ভালো সম্ভাবনা আছে এখানে। বাইক স্ট্যান্টেও এখন বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নজর দিচ্ছে।'

স্ট্যান্ট ও গেমিংয়ের বাইরে রাহাত একজন ব্যবসায়ী। মেটাল সঙ্গীতের ভক্ত রাহাত নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নাম রেখেছেন 'মেটাল জোন।' উদ্যোগ নিয়ে নোয়াখালীতে তিনিই প্রথম আয়োজন করেছেন 'স্বাধীনতা কনসার্ট।' করোনায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছর আবারও ইচ্ছে আছে কনসার্ট আয়োজনের। এত কিছুর সমন্বয় কীভাবে করেন জানতে চাইলে রাহাতের হাসিমাখা জবাব, 'প্রথম দিকে অসুবিধা হতো। এখন সয়ে গেছে। সময় ভাগ করে নিয়েছি।'

ইত্তেফাক/এসটিএম