বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আয়াত এডুকেশন

নুসরাত আমানের ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ

আপডেট : ০৮ জুন ২০২২, ০৭:৫৬

অনেকেই বলেন, ‘এত কাজ করার দরকার কী। চাইলে চ্যারিটিতে টাকা দিতে পারেন।’ বাইরের জগতে কাজ করতে গিয়ে যেসব প্রশ্নের সম্মুখীন হন প্রতিনিয়ত সেই অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই বলছিলেন আয়াত এডুকেশনের সিইও নুসরাত আমান। তার আরও একটি পরিচয় আছে, তিনি আমেরিকান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।

বাংলাদেশের মতো একটি দেশে নারীদের কর্মক্ষেত্রে বিচরণ থাকলেও যত উচ্চপদের দিকে নজর দেওয়া যায়, নারীদের সংখ্যা তত কমতে থাকে। তবে সমাজের বাধা, অসঙ্গতি সব ঠেলে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন নুসরাত আমান। পড়াশোনা, চাকরি, শিশু সন্তান, আইবিএতে এমবিএ করা সব একসাথে করেছেন। পরিবারের সাপোর্ট সব সময় পেলেও সমাজ থেকে প্রায়শই উড়ে এসেছে হাজারো প্রশ্ন, নেতিবাচক মন্তব্য। তবুও নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন নুসরাত আমান।

তার শিক্ষাজীবনের কিছুটা সময় কেটেছে বাংলাদেশে, তারপর বাবার কর্মক্ষেত্রের সূত্রে আফ্রিকায়। বেড়ে ওঠা মূলত ওয়েস্ট আফ্রিকা, ঘানা ও জিম্বাবুয়েতে। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট করেছেন আমেরিকার বস্টনে সাইকোলজি অ্যান্ড নিওরোসাইন্স বিভাগে। কর্মজীবনের শুরু রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে আমেরিকার নম্বর ওয়ান রিসার্চ হসপিটাল ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে। তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল—ডাক্তার হওয়া কিংবা ম্যাস জেনারেল হাসপাতালে কাজ করা। আমেরিকা থেকে ফিরে ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড অ্যান্ড মাদার হেলথে কাজ শুরুর পাশাপাশি এমবিএ করা শুরু করেন। দেশের মানুষের জন্য কিছু করার ভাবনা যে তার নিত্যসঙ্গী। কিন্তু মনে প্রশ্ন, ‘কীভাবে করব?'

একসময় বুঝতে পারলেন, যুব সমাজকে দিয়ে কাজ করার বড় সুযোগ রয়েছে। সেখান থেকেই আয়াত এডুকেশনের পথচলা শুরু। ২০১৪ সালে নুসরাত আমান ও তার স্বামী তাহসীন আমান মিলে শুরু করেন আয়াত এডুকেশনের যাত্রা। শুরুতে আয়াত এডুকেশনে বেসিক স্কিল ডেভলপমেন্টের ট্রেনিং দেওয়া হতো। যেন মানুষ নিজের কর্মক্ষেত্রে কিছুটা হলেও স্কিল নিয়ে প্রবেশ করে সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারে। কিন্তু এরপর মনে হলো কাজের পরিসীমা বাড়াতে হবে।

এ বিষয়ে নুসরাত আমান বলেন, ‘কোথায় কাজ করা যায় চিন্তা করতে গিয়ে দেখলাম, আমাদের দেশের মানুষ হেলথ কেয়ারে খুব একটা নজর দেয় না। অবশ্য এখানে প্যালিটিভ কেয়ারে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। বিশেষ করে আমাদের দেশের মেয়েরা সামাজিক বাধ্যবাধকতা বা যেকোনো কারণেই হোক না কেন নিজের হেলথ চেকআপ করেন না। আমাদের দেশের ৭০ ভাগ ক্যানসার রোগীর ক্যান্সার শনাক্ত হয় যখন নিরাময় করার উপায় থাকে না।’

একসময় তারা সিদ্ধান্ত নিলেন প্যালিটিভ কেয়ার নিয়ে কাজ করার। তাদের উদ্দেশ্য, প্যালিটিভ কেয়ার যদি প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তারা মনে করেন, নার্স, ডাক্তার, কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার এবং বাড়িতে যারা আছেন তাদের সবাইকে যদি কিছুটা শেখানোর পাশাপাশি সচেতন করা যায়, তাহলে রোগীর সিরিয়াস অসুস্থতার সময়টা বেশ সহজ হয়ে ওঠবে।

নুসরাত আমানের মতে, ‘জন্ম হয়েছে মানে, মারা যেতেই হবে। তবে সেই মৃত্যু যেন সহজ হয়। আমরা ফোকাস করছি কোয়ালিটির ওপর। মারা যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বেঁচে আছি, কীভাবে আছি, কীভাবে মারা যাচ্ছি— তার ওপর জোর দিচ্ছি। তাই প্যালিটিভ কেয়ার নিয়ে আমাদের এত ভাবনা।’ তার মতে, প্যালিটিভ কেয়ারকে যদি প্রাইমারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে দেশের মানুষের কোয়ালিটি অব লাইফ আরও বেটার হবে।

আয়াত এডুকেশনের লক্ষ্য আগামী তিন বছরের মধ্যে সরকারের সহায়তায় দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে প্যালিটিভ কেয়ারের ইউনিট করা। আয়াত এডুকেশনের একটি নার্সিং কলেজ আছে, এর নাম ‘আয়াত কলেজ অব নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স’।

ইত্তেফাক/ইআ