ন্যায়বিচার চাইলেন ফরিদপুরের সেই রুবেলের মেয়ে

আপডেট : ০৮ জুন ২০২২, ১১:২৬

ন্যায়বিচার দাবি করে সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থপাচারের মামলায় কারাগারে থাকা ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাইয়ের এক ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের মেয়ে যাওয়াতা আফনান রাদিয়া। তার বাবার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার (৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ দাবি জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে যাওয়াতা আফনান বলেন, গত ১৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে আমার বাবা ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের সম্পদের হিসাব গণমাধ্যমে তুলে ধরেছিলাম। সিআইডি, দুদক, বিএফআইইউ হাইকোর্টে অর্থ পাচারকারীর যে তালিকা জমা দিয়েছে সেখানে আমার বাবার নাম না থাকায় প্রমাণিত হয়েছে। গণমাধ্যমে দেওয়া আমার হিসাব সত্য ও সঠিক ছিল। তারপরও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বাবার নামে ২৯১০কোটি টাকার মামলার একটি কল্পকাহিনীমূলক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলে, একটি কুচক্রি মহল ও প্রশাসনের সরকারবিরোধী কর্মকর্তারা ব্যক্তিকে শায়েস্তার নামে এই রূপকথার মামলা তৈরি করে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। আবারও বলছি, সৎসাহস আছে বলেই আমাদের সম্পদের হিসাব গণমাধ্যমে তুলে ধরেছিলাম। যদি আমাদের হিসাবের ভুল ধরে সমালোচনা করেন, তাহলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবো। 

ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের মেয়ে বলেন, এই মামলাটি এখন রাজনৈতিক খোরাকে পরিণত হয়েছে। মামলাকে অতিরঞ্জিত করার ফলে আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সরকারদলীয় লোকের নামে মামলা হলে স্বাভাবিক আইন ও বিচার তার পক্ষে পাওয়া দুরূহ ব্যাপার।

বিজ্ঞপ্তিতে মামলার কিছু অসঙ্গতিও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, আমার বাবা গত বছর ২ বছর যাবৎ কারাগারে আটক আছেন। গ্রেফতারের পর রিমান্ড নিয়ে তার ওপর অমানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ১৪টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে এই নির্যাতনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লুটরাজ চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। সরকারি কাজের বিপরীতে ব্যাংক লোন একাউন্টগুলো জব্দ করা হয়েছে। আমার মা-চাচির নামে চুরির মামলাসহ একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে। পরিবারের ছোট ছোট ৯টি ভাই বোন আমরা। 

তিনি আরও বলেন, আমার পরিবারকে দীর্ঘ ২ বছর যাবৎ বাড়ি যেতে দেওয়া হয় না। আমার বাবা ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। একজন সাংবাদিকের সন্তান হিসেবে সাংবাদিক সমাজের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যদি সত্যি হই তাহলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আপনারা আমাদের পরিবারের পাশে থাকবেন।

ইত্তেফাক/কেকে