মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাজশাহীতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হবে না যে গ্রামে 

আপডেট : ১০ জুন ২০২২, ১৬:৪৪

রাজশাহীর পবা উপজেলার কারিগরপাড়া গ্রামকে শতভাগ ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন ও ব্যবহারের গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় পবা উপজেলার কারিগরপাড়া গ্রামকে শতভাগ ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন ও ব্যবহারের গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা হয়। 

এবারের জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান "বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক)" ও পবা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে ‘টেকসই পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা’-বিষয়ক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় আগের দিন জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২১ পেয়েছে বারসিক।

কারিগরপাড়া গ্রামের কিষান-কিষানিদের নিয়ে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রাসায়নিকের বদলে আমাদের জৈব সারের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। রাসায়নিক সার আমদানি করতে সরকারকে প্রচুর টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। ভার্মিকম্পোস্টের মধ্যে সব সারের উপাদান আছে। তাই আলাদা করে অন্য কোনো সার প্রয়োগ করার দরকার নেই। এর ফলে ফসল উৎপাদনে খরচও কম, পরিবেশও রক্ষা হবে।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও কৃষি নিয়ে মাঠপর্যায়ে তথ্য তুলে ধরেন বারসিকের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দিতে বলেছেন। সেই লক্ষ্যে আমরা কৃষকদের মধ্যে নিজস্ব সম্পদ ও প্রকৃতিভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়কের ভূমিকা পালন করছি। কৃষকদের নিজস্ব জ্ঞান এবং তথ্যগুলো বিনিময়ে সহায়তা করে থাকি, যাতে কৃষক তাঁদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন। এর ফলে কৃষি হবে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব।’

বড়গাছি কৃষক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক জব্বার আলীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনকারী কিষানি বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৭ সাল থেকে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করি। এটি বিক্রি করেই আমার সংসার চলে। আমার প্রতি মাসে এ থেকে আয় হয় গড়ে ১২ হাজার টাকা।’

এ সারের উপকারী দিকগুলো নিয়ে কথা বলেন কিষানি মমেনা বেগম, কৃষক সুলতান আহমেদ, বারসিকের কৃষি কর্মকর্তা অমৃত কুমার সরকার প্রমুখ।

আলোচনা শেষে কারিগরপাড়া গ্রামকে শতভাগ ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন ও ব্যবহারকারী গ্রাম ঘোষণা করেন পবা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। এই গ্রামে ৩৬ জন কিষান-কিষানি ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করেন। একই সঙ্গে গ্রামের সব কৃষকপরিবার এ কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছে। প্রায় সাত বছর ধরে ভার্মিকম্পোস্ট সার তৈরি ও উৎপাদন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে এ গ্রামে।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রাজশাহীতে বাড়ছে চুরি ছিনতাই, মামলা নিতে চায় না থানা

জায়গার অভাবের অজুহাতে রাজশাহীতে স্থান পেল না কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি!

রাজশাহীর বিদ্যুতের ১০ শতাংশই খরচ ব্যাটারিচালিত যানে

উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করায় খুন, গ্রেফতার ৫

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গোদাগাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে ধানের গোলা

রাজশাহী মহানগরীর পাঁচটি ফ্লাইওভারের নকশা চূড়ান্ত

বাগমারায় পটোলের দাম কম হওয়ায় বিপাকে কৃষক

রাজশাহীতে নারী শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার