পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সৈয়দপুর কারখানায় এবার গোপনে ৫০০ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাজ আছে, মজুরি আছে—ভিত্তিতে ঐ শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগে বড় ধরনের বাণিজ্য হয়েছে বলে রেলওয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ ছাড়াই এসব কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী কুদরত-ই খুদার সুপারিশে সৈয়দপুর কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান এ নিয়োগ প্রদান করেন।
রেলওয়ের সূত্র মতে, চলতি বছর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সৈয়দপুর কারখানার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে সর্বমোট ৩০০ লোক নিয়োগ করা হয়েছে। এর আগে আরো ২০০ শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। রেলওয়ে সূত্র আরো জানায়, সৈয়দপুর কারখানায় শ্রমিক সংকটের অজুহাত তুলে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি ভিত্তিতে (মাসে ১৫ হাজার টাকা) এসব শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। তবে এসব শ্রমিকের অধিকাংশই রেলওয়ে কর্মকর্তাদের পছন্দের লোক। এর পরেও একেক জনের নিকট থেকে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।
অনেককেই প্রলোভন দেওয়া হয়েছে চাকরি স্হায়ীকরণেরও। তবে মাত্র দেড় মাসের জন্য (১৫ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত) চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষ হলে পুনরায় আবারও নতুন করে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এভাবে বছর খানেক পার করে এসব অস্থায়ী শ্রমিকদের দিয়েই চাকরি স্হায়ীকরণের জন্য আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়ারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়োগ পাওয়া একাধিক শ্রমিক জানান, রেল কর্মকর্তাদের সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছেন ঐ শ্রমিকরা। আর এটি করতে গিয়েই ঐ শ্রমিকদের নিকট থেকে একটি চক্র বড় ধরনের বাণিজ্যে লিপ্ত ছিল। তবে এ নিয়োগে কোনো ধরনের বাণিজ্য করার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন সৈয়দপুর কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘অনেকেই এখনো যোগদান করেনি। তবে যারা যোগদান করেছে, তাদের পরীক্ষা নিয়েই আমরা কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করাচ্ছি। দক্ষ লোক ছাড়া এখানে কেউ কাজ করতে পারবে না। তাই যোগদানের পরেও কয়েক দিন কাজ করে অনেকেই চলে যাচ্ছেন। কাজেই নিয়োগের নামে অর্থ আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রকল্পে এখন টাকা আছে। তাই দেড় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয়েছে। টাকা শেষ হলে কাজও শেষ হয়ে যাবে। আবার টাকা পেলে শ্রমিকরা কাজ করবেন।’
