ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় কথিত স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয় এক পোশাককর্মী। এ ঘটনায় তিন ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে কেন্দুয়া থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামের রঙ্গ মিয়ার ছেলে টিপু মিয়া, একই গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে আমির হামজা ও সবুজ মিয়ার ছেলে আনোয়ার। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে টিপু মিয়াকে শনিবার (৮ জুন) সকালে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে শনিবার বিকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে এ ঘটনায় থানা প্রাঙ্গণে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে ওসি রাশেদুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার শিকার নারীর কথিত স্বামী সুমনই নূরে আলম। সে বৈরাটি গ্রামের আব্দুল হামিদ ওরফে শম্ভু মিয়ার ছেলে। নূরে আলম তার পরিচয় গোপন করে ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওই নারী ও নূরে আলম দুজনই বিবাহিত এবং তাদের সন্তানও রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত তিন ধর্ষক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।’
ওসি আরো বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাটির মূল পরিকল্পনাকারীই হলো কথিত স্বামী নূরে আলম ওরফে সুমন। দুজন গাজীপুরে বসবাস করার সুবাদে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে নূরে আলম প্রতারণার মাধ্যমে ওই পোশাককর্মীকে বিয়ে করে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তারা দুজন নিজ বাড়িতে এসে গত বৃহস্পতিবার মোটরসাইকেলে করে বেড়াতে বের হয়। তার আগে বাকি ধর্ষকদের সঙ্গে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে নূরে আলম। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কেন্দুয়া-মদন সড়কের শাপলা ব্রিকস ইটখলা এলাকায় মোটরসাইকেলটি বিকল হয়ে গেছে বলে গাড়ি থামিয়ে কৌশলে ওই নারীকে ইটখোলার ভিতরে নিয়ে গিয়ে কথিত স্বামীর সামনেই পালাক্রমে ধর্ষণ করে টিপু, আমির হামজা ও আনোয়ার।’
আরও পড়ুন: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে কুড়িয়ে পাওয়া সেই নবজাতক পেলো নতুন বাবা-মা
ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী মদন, ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে থাকা তিন ধর্ষককে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী কথিত স্বামী নূরে আলমকে গ্রেফতারের জোর তৎপরতা চলছে। তবে ওই নারী তিন ধর্ষকের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার মামলা দায়ের করলেও ওই মামলায় কথিত স্বামীকেও আসামি হিসাবে অর্ন্তভূক্ত করা হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু

