ক্যাসিনোকাণ্ডের সাঈদ এখন ওমানে

জিজ্ঞাসাবাদে মুসার চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট : ১২ জুন ২০২২, ০০:১৯

ক্যাসিনোকাণ্ডে পলাতক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বহিষ্কৃত কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ ওমানে ব্যবসায় কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছেন। ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণের চাঁদা ও মতিঝিল-ফকিরাপুল এলাকার চাঁদাবাজির বিপুল অঙ্কের টাকা তিনি ওমানে পাচার করেছেন। 

দুবাইয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের ডেরা থেকে ওমানের সালালায় যাওয়ার পর সাঈদের সঙ্গে দেখা হয় সুমন সিকদার ওরফে মুসার। ঢাকায় সাঈদ শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের বিপরীত গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। এ কারণে ওমানে সাঈদ ঐ দেশের রয়েল ওমান পুলিশের কাছে মুসাকে ধরিয়ে দেয়। এরপরই বাংলাদেশের পুলিশের টিম গিয়ে ওমান থেকে মুসাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মুসা ডিবির কাছে এসব তথ্যসহ আরো বেশ কিছু তথ্য জানিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে সেই তথ্যগুলোই ক্রসচেক করে দেখছেন তারা। 

এ ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও আগ্নেয়াস্ত্রের সন্ধান এখনো না মেলায় জিজ্ঞাসাবাদে সে বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ছাড়াও খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত ১৩ জনের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মুসাকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানায় তারা।

জানা গেছে, গত ১২ মে ওমানের সালালায় মুসা আটক হওয়ার পরই দুবাই থেকে মতিঝিলের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী দুই/তিন জন আওয়ামী লীগ নেতার কাছে জিসান ফোন করেন। কার কার কাছে জিসান ফোন করেছিলেন—সেই তালিকাও মুসা ডিবির জিজ্ঞাসাবাদকারী টিমের কাছে জানিয়ে দিয়েছেন। এ তালিকায় মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক কয়েক জন শীর্ষ নেতার নাম রয়েছে।

ডিবির একটি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মুসা জানান যে, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু খুন হওয়ার ১২ দিন আগে ১২ মার্চ মুসা দুবাইয়ে রওনা দেন। এর আগে তার পাসপোর্টে দুবাইয়ের ভিসা লাগানোর কাজটি জিসানের নির্দেশনায় সম্পন্ন করতে হয়। দুবাইয়ে জিসানের ডেরায় আশ্রয় নেয় মুসা। সেখান থেকে খুন হওয়ার আগে কার কার সঙ্গে কথা বলেছিল—তাদের নামের তালিকা পেয়েছে মামলা তদন্তকারী সংস্থা ডিবি। 

ডিবি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে নানা তথ্য মিলেছে। নতুন ও পুরোনো সব মিলিয়েই তথ্য দিচ্ছেন মুসা। তবে সেই তথ্যগুলো কতটা ঠিক, নির্ভুল অভিযোগপত্র দেওয়ার জন্য সেসব ক্রসচেক করে দেখছেন তারা।

ইত্তেফাক/এএএম