অপরাধ বাড়ছে সিলেটে, ধরা পড়ছে না কেউ!

আপডেট : ১২ জুন ২০২২, ০৭:০০

সিলেটের অপরাধ দিন দিনই বেড়ে চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের ঘটনার সুরাহাও করতে পারছে না পুলিশ, ধরা পড়ছে না অপরাধী। গত ৪ জুন ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম (৪২) হত্যাকাণ্ডের পর আট দিন পেরিয়ে গেলেও খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এক বছর পেরিয়ে গেলেও শহরতলীর খাদিম এলাকায় খুন হওয়া কিশোরের খুনিকে ধরা তো দূরের কথা, নিহত কিশোরেরই পরিচয় উদ্ধার করা যায়নি। মাস ছয়েক আগে ঐ কিশোরের হত্যারহস্য উদ্ঘাটনের দায়িত্ব পড়ে সিআইডির ওপর। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও এই কেসের কোনো কুল-কিনারা করতে পারেনি। তারা খুন হওয়া কিশোরের পরিচয় জানতে সর্বমহলের সহযোগিতা চেয়েছে। এদিকে আবার নগরে স্কুলছাত্রী অপহরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। 

সূত্র মতে, পাচারকারী চক্র তাদের অপহরণ করে ভারতে নিষিদ্ধপল্লিতে পাচার করে দেয়। সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. লুত্ফর রহমান জানান, জৈন্তাপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণ ও অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আটটি টিম মাঠে নামানো হয়েছে। তারা অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে এই চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে গত বুধবার কোম্পানীগঞ্জে অস্ত্রের মুখে এক পাথর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঐ ব্যবসায়ী ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ব্যবসায়ী বশির মিয়া জানান, ঐ রাতে পাথর বিক্রির দেড় লাখ টাকা নিয়ে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পাড়ুয়া সাকেরা এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারী দল তার গাড়ির গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ইদানিং সিলেট সীমান্তে নারী পাচারকারীদের তৎপরতাও বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। স্কুলছাত্রীদের টার্গেট করে অপহরণ করছে একটি চক্র। এই চক্রে পুরুষ ও নারী সদস্য রয়েছে। চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করতে পুলিশের আটটি টিম মাঠে নেমেছে। অপহরণকারী চক্রের হাত থেকে কৌশলে ফিরে আসতে পেরেছেন জৈন্তা উপজেলার তিন ছাত্রী। কিন্তু জৈন্তার অপহৃত দুই ছাত্রীর খোঁজ পাওয়া যায়নি এখনো। এর মধ্যে এক জন ২০ মে ও অপর জন ২৯ মে নিখোঁজ হয়।

ভারত সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলায় অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত অভিভাবকরা। জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন, স্কুলছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী মনিরুল হত্যাকাণ্ড

সিলেটে ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলামকে (৪২) গত ৪ জুন হত্যা করা হয়। রাত ৯টার দিকে সিলেট এয়ারপোর্ট থানাধীন মালনীছড়া চা-বাগানের এমডির বাংলো সংলগ্ন পাকা রাস্তার পাশে মনিরুলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। মনিরুল বিমানবন্দর থানার বড়শালা আহমদ হাউজিং আবাসিক এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। নগরীর খাসদবির এলাকায় মনিরুল ইসলামের একটি ওয়ার্কশপ রয়েছে। কিন্তু এখনো জানা যায়নি খুনের মোটিভ। ময়নাতদন্ত শেষে গত রবিবার বিকালে মনিরুলের লাশ দাফন করা হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। বিমানবন্দর থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেছেন, খুনের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে জোর চেষ্টা চলছে। শিগগিরই রহস্য উদ্ঘাটন হবে।

নিহত সেই কিশোর আজও অজ্ঞাতনামাই থেকে গেছে

সিলেট শাহপরান (র.) থানার উত্তর দলইপাড়ার একটি লিচু বাগানে গত বছর পাওয়া যায় অজ্ঞাতনামা এক কিশোরের লাশ। আজও সে অজ্ঞাতনামাই থেকে গেছে, তার পরিচয় উদ্ধার করা যায়নি গত এক বছরেও। সিলেট সিআইডি পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সম্ভবত খুন হওয়া কিশোরটি স্থানীয় নয়। কারণ ঐ কিশোরের লাশের দাবিদার কেউ আসেননি আজ পর্যন্ত। এ সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্যও জানায়নি। আমরা এ বিষয়ে তথ্য চাই।

ভিকটিমের বিষয়ে কেউ কোনো তথ্য পেলে ০১৩২০০১১৫৭৩ নম্বরে জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয় সিআইডির পক্ষ থেকে।

ইত্তেফাক/ ইআ