সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহ নেই কৃষকদের

আপডেট : ১২ জুন ২০২২, ০৩:০১

চলতি মৌসুমে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ১ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ হচ্ছে না। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্র জানা যায়, ২৩ এপ্রিল থেকে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হলেও ৭ জুন পর্যন্ত ধান সংগ্রহের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪ টন। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। গত আমন ধান সংগ্রহ মৌসুমে ফুলবাড়ীতে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ছয় মেট্রিক টন। এরমধ্যে ফুলবাড়ী গুদামে ২ মেট্রিক টন এবং মাদিলাহাট গুদামে চার মেট্রিক টন ছিল।

ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক যোতিশ চন্দ্র রায় বলেন, বর্গা নেওয়া দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। তারপরও এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি জমে ছিল। যার কারণে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি বেশি দিয়ে ধান কাটতে হয়েছে। এতে ধান উৎপাদনে খরচ বেশি হয়েছে। সরকারিভাবে ধানের মূল্য দিচ্ছে ১ হাজার ৮০ টাকা। বাজারে সে ধানের দাম দিচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তাহলে কেন সরকারিভাবে ধান বিক্রি করব। 

পৌর এলাকার চকচকা গ্রামের আদর্শ কৃষক জিল্লুর রহমান বলেন, এ বছর ধানের বাজারদর একটু বেশি। সরকারি গুদামে ধানের দাম কম হওয়ায় সেখানে কৃষকরা তাদের ধান দিলে তো লোকসানে পড়বেন। যেখানে লাভ পাওয়া যাবে, সেখানেই ধান বিক্রি করা হবে। 

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. কাজিম মণ্ডল বলেন, এপ্রিলের ২৩ তারিখ থেকে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। এ বছরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত ২৯৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে ফুলবাড়ী গুদামে ২৮০ মেট্রিক টন এবং মাদিলাহাট গুদামে ১৪ মেট্রিক টন রয়েছে। বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য ফুলবাড়ী খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ইত্তেফাক/ ইআ