রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

নির্বাচনি সহিংসতা: কৃষককে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখলো প্রতিপক্ষ

আপডেট : ১২ জুন ২০২২, ১৭:০৮

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরে আলী হোসেন সরদার (৫৫) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার চিতলীয়া ইউনিয়নে টুংচর নতুন রাস্তায় হামলার এ ঘটনা ঘটে।

আহত কৃষক আলী হোসেন সরদার চিতলিয়া ইউনিয়নের মজুমদার কান্দী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপ‌তি ও আসন্ন চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাস্টার হারুন অর রশিদ হাওলাদারের সমর্থক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিতলিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুস সালাম হাওলাদারের সঙ্গে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাস্টার হারুন অর রশিদ হাওলাদারের বিরোধ চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মে মজুমদার কান্দী গ্রামে এই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আব্দুস সালাম হাওলাদারের সমর্থক কুদ্দুছ বেপারী নিহত হন।

এরপর সালাম হাওলাদারের সমর্থকরা হারুন হাওলাদারের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়। এ সময় আলী হোসেন সরদারের বাড়িতেও ব্যাপক হামলা ও লুটপাট করা হয়। কুদ্দুস বেপারী খুনের আসামিও করা হয় তাকে। এরপর থেকে তিনি নিজের বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী টুংচর এলাকায় গিয়ে থাকতেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলী হোসেন সরদারকে ধরে নিয়ে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত আহত করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায় প্রতিপক্ষ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। 

জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, ‘আলী হোসেন সরদার আমার দল করার কারণে সালাম হাওলাদারের লোকজন নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ফেলে রেখে চলে যায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমি হামলাকারীদের বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে আব্দুস সালাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে তাকে বারবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম