আমদানির খবরে দিনাজপুরে কমছে চালের দাম

আপডেট : ১৪ জুন ২০২২, ১৭:১৬

অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান, এরপর আবার ভারত থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত। এমন খবরে ধানের জেলা দিনাজপুরে কমছে চালের বাজারের অস্থিরতা। কমতে শুরু করেছে দাম। চালের দাম বৃদ্ধিতে প্রায়ই যাদের সঙ্গে ক্রেতাদের বচসা বাধে, বাজারের সেই চাল বিক্রেতারা বলছেন, সরকারের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে ক্রেতারা স্বস্তি পাবেন, পাশাপাশি তারাও স্বস্তিতে চাল বিক্রি করতে পারবেন। 

দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজারের চাল বিক্রেতা লিয়াকত আলী জানান, সম্প্রতি চালের বাজারে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তা কিছুটা কমে এসেছে। তিনি জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মিনিকেট চাল ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে নেমে ৩ হাজার ৫০ টাকায়, গুটি স্বর্ণ ২ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে নেমে ২ হাজার ৩০০ টাকায়, সুমন স্বর্ণ ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে নেমে ২ হাজার ৪০০ টাকায় নেমে এসেছে। তিনি বলেন, প্রকারভেদে বিভিন্ন চালের দাম বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেমে এসেছে। ফলে খুচরা বাজারেও কমেছে চালের দাম। 

বাজারের চাল বিক্রেতারা জানান, সম্প্রতি অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মিল মালিকরা চালের দাম কমাতে শুরু করেছে। এছাড়াও ভারত থেকে চাল আমদানির খবরে চালের দাম আবারও কমতে শুরু করেছে বলে জানান চাল বিক্রেতারা।

চাল বিক্রেতারা জানান, চাল সংকটের আশঙ্কায় অনেক ভোক্তাই বেশি বেশি করে চাল কিনে রেখেছে। আর এ কারণে বাজারে বর্তমানে চালের বিক্রিও কমেছে। বাজারে বর্তমানে চাল বেচা-কেনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানান চাল বিক্রেতারা। মিল মালিকরাও বলছেন, ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হলে চালের দাম কমবে।

দিনাজপুর চালকল মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইকবাল চৌধুরী জানান, দেশে এবার ধানের উৎপাদন কম হয়েছে। এ কারণে সরকারের উচিত বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে মজুদ করা। 

গত ১ মাসে অন্তত কেজিতে ১০-১২ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় সব ধরনের চাল। ফলে অস্থিরতা দেখা দেয় চালের বাজারে। অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন ক্রেতারা। এই অবস্থায় সরকার সোমবার ভোক্তাদের সুখবর দিতে এবং চালের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই খবরে কমতে শুরু করেছে সব ধরনের চালের দাম। 

এদিকে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সহসভাপতি শাহীনুর রেজা জানান, শুল্কমুক্ত ভাবে আমদানি করা হলে এর সুফল ভোক্তারা পাবে। কারণ চালের দাম অনেক কমে আসবে। অসৎ মিল মালিকরা ধানের মজুত করে চাল উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এ কারণে বাজারে চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে যায়। ফলে কেজিতে সব ধরনের চালের দাম ১০-১২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছিল।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম বলেন, চাল বাজারে জোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু আছে। সেই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতও চালু আছে। অপরদিকে চাল মজুতকারী ও বড় বড় কৃষক যারা ইতিপূর্বে গুদামজাত করেছিলেন তারাও বাজারে চাল ছাড়তে শুরু করেছে। এছাড়াও সরকার চাল আমদানির ঘোষণা দেওয়ার ফলে চালের বাজার আরো একধাপ নিচে নেমে গেছে। 

ইত্তেফাক/এআই