নির্বাচনী সহিংসতা: জাজিরায় পুলিশের গুলিতে শিশুসহ আহত ৩

আপডেট : ১৫ জুন ২০২২, ২৩:০০

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে পুলিশের ছোড়া শর্টগানের গুলিতে ৩ বছরের এক কন্যা শিশুসহ তিন জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৫ জুন) উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে ইমরান হোসেন, রুবিনা আক্তার ও তার তিন বছরের কন্যা লামিছা গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন জাজিরা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।

পুলিশ ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শরীয়তপুরের জাজিরায় ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সবগুলো ইউপিতেই ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। বিকালে বিলাশপুর ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রে সদস্য প্রার্থীদের ফলাফল বুঝিয়ে দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শেখ দেলোয়ার হোসেন। এসময় বিজয়ী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকরা মিছিল করতে থাকে। তখনই পরাজিত প্রার্থী মতিউর রহমান সিকদারের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা করেন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। হামলাকারীরা ভোট কেন্দ্র ভাংচুর করে নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিতদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় কয়েকটি ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা শটগান দিয়ে গুলি ছোড়ে। এসময় পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলিতে ইমরান হোসেন, রুবিনা আক্তার ও তার তিন বছরের কন্যা লামিছা গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরে রাব বিজিবি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান সোহেল অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের উদ্ধার করেন।

এ ব্যাপারে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শেখ দেলোয়ার হেসেন বলেন, ফলাফল ঘোষণা করে আমরা সকল প্রার্থীর রেজাল্টসিট বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম। এমন সময় পরাজিত প্রার্থী মতিউর রহমানের সমর্থকরা হামলা করেন। তাদের হামলায় আমাদের কর্মকর্তারাও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমাদের কিছু মালামাল খোয়া গেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আমাদের উদ্ধার করেছেন।

এব্যাপারে জাজিরা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ থামাতে ও নির্বাচনের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিরাপদ রাখতে পুলিশ ১২ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়েছে। তাতে তিন জন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/ ইআ