লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ০০:৪০

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ৪ উপজেলার তিস্তার তীরবর্তী হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিকাল ৩টার পর্যন্ত পানি কমতে থাকে, সন্ধ্যার পর পানি বাড়ে বিপদসীমার ১০ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ রাখতে ও ব্যারেজ রক্ষার্থে তিস্তা নদীর মূল স্রোতের ধারার সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টায় তিস্তা নদী কিছুটা স্থিতিশীল থেকে পানি হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নিচে নেমে আসতে পারে। তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উজানের ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা নদীর বাম তীরে পানিবন্দি পরিবারগুলো পড়েছে ভোগান্তিতে। তিস্তার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার রাস্তা-ঘাট ডুবে গিয়ে চরাঞ্চলের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। কেউ কেউ ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধ বা পার্শ্ববর্তী গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। গবাদি পশু-পাখি নিয়েও চরম বিপাকে পানিবন্দি পরিবারগুলো।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর জানিয়েছে, তিস্তা নদীর বাম তীরে পাটগ্রাম উপজেলা দহগ্রাম ইউনিয়ন। হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিংগিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়ন। সদর উপজেলার  খুনিগাছ ও রাজপুর ইউনিয়ন কিছু কিছু এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করছে। বন্যার্তদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে । 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি